Fuel Price Hike:পশ্চিম এশিয়ার সংকটের আবহে দেশে জ্বালানির দাম বাড়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, মোদী সরকারের ভুলের মাশুল দিতে হবে সাধারণ মানুষকে।
শুক্রবার দেশজুড়ে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি দায়ী করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি আসলে মোদী সরকারের ভুলের ফল, যার বোঝা বইতে হবে সাধারণ মানুষকে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে তেলের দাম অনেকটাই কম বেড়েছে।

রাহুলের নিশানায় নরেন্দ্র মোদী
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে রাহুল গান্ধী লেখেন, মোদী সরকারের ভুলের কারণেই মানুষকে এই মূল্য দিতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়িয়ে একপ্রকার "তোলাবাজি" (extortion) করা হচ্ছে, যা কিস্তিতে আদায় করা হবে। তিনি লেখেন, "ভুল মোদী সরকারের, কিন্তু দাম চোকাতে হবে জনতাকে। ৩ টাকার ধাক্কা তো সবে এসেছে, বাকি টাকা কিস্তিতে করা হবে।"
পেট্রোল ডিজেলের দাম ৩টাকা বৃদ্ধি
কেন্দ্রীয় সরকার দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা বাড়ানোর পরেই রাহুলের এই আক্রমণ সামনে আসে। এই নতুন দাম অনুযায়ী, নয়া দিল্লিতে পেট্রোলের দাম ৯৪.৭৭ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৭.৭৭ টাকা। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম ৮৭.৬৭ টাকা থেকে বেড়ে ৯০.৬৭ টাকা হয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধিকে সমর্থন কেন্দ্রের
তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধিকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংকটের কারণে যেখানে অন্যান্য দেশে পেট্রোলের দাম ২০% থেকে প্রায় ১০০% পর্যন্ত বেড়েছে, সেখানে ভারতে পেট্রোলের দাম মাত্র ৩.২% এবং ডিজেলের দাম ৩.৪% বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁর সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনকল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সরকার সবসময় মানুষের কথা আগে ভাবে।
রিজিজু X-এ একটি পোস্টে বলেন, "পশ্চিম এশিয়ার সংকটের পর যখন গোটা বিশ্ব জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে লড়াই করছে, তখন ভারত নিজেকে আলাদা প্রমাণ করেছে। যেখানে অনেক দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ২০% থেকে প্রায় ১০০% বেড়েছে, সেখানে ভারতে পেট্রোলের দাম মাত্র ৩.২% এবং ডিজেলের দাম ৩.৪% বাড়ানো হয়েছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "যখন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল এবং বিশ্ব বাজার অস্থির ছিল, তখনও ভারতের সরকারি তেল সংস্থাগুলি মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ থেকে নাগরিকদের রক্ষা করার জন্য কয়েক সপ্তাহ ধরে বিপুল লোকসান সহ্য করেছে। একেই বলে দায়িত্বশীল সরকার। এই নেতৃত্ব মানুষের কথা সবার আগে ভাবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অধীনে ভারত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে জনকল্যাণের ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে।"
তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ
প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে এই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইজরায়েল এবং ইরান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।


