কংগ্রেসের সভাপতি হয়ে দলের তরুণ তুর্কিদের সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন রাহুল গান্ধী। আর তাঁর লড়াইয়ে বিশ্বস্ত দুই সহযোগী ছিলেন সচিন পাইলট এবং জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। রাহুলের বাবু রাজীবের বন্ধু ছিলেন জ্যোতিরাদিত্যের বাবা মাধবরাও সিন্ধিয়া। পরবর্তী প্রজন্মে দুই ছেলের মধ্যেও সেই বন্ধুত্ব অটুট থেকেছে। রাহুলের পাশাপাশি বোন প্রিয়ঙ্কারাও প্রিয়পাত্র ছিলেন মাধবপুত্র। কিন্তু মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার ফল ঘোষণার পর থেকেই পরিস্থিতি ক্রমে বদলাতে শুরু করেছিল। রাহুলের তরুণ প্রজন্মকে আটকে দিয়েছিল শতাব্জীপ্রাচীন দলের বর্ষীয়াণ নেতৃত্ব। আর তাতেই মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসকে জিতিয়ে আনলেও ক্ষমতা পাননি জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। অপেক্ষা করতে বলেছিলেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু তারপর প্রায় দেড়বছর হতে চললেও জ্যোতিরাদিত্যের অপেক্ষা শেষ হয়নি। আর তার চরম পরণতি ১৮ বছরের আনুগত্য ছেড়ে পদ্মশিবিরে মাধবপুত্রের হাজির হওয়া। কিন্তু জ্যোতিরাদিত্যের দলবদলের পরও তাঁর হৃদয়ে মাধবপুত্রের জন্য যে আলাদা জায়গা রয়েছে  তার প্রমাণ দিলেন রাহুল গান্ধী। জ্যোতিরাদিত্য বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রিট্যুইট করলেন দুজনের একটি ছবি।

আরও পড়ুন: মুম্বইতে এবার করোনার থাবা, দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬৮, পিছোতে পারে আইপিএল ম্যাচ

২০১৮ সালের ডিসেম্বপ বিধানসভা নির্বাচনে  বিজেপির থেকে মধ্যপ্রদেশের ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছিল  কংগ্রেস। শুধু মধ্যপ্রদেশ নয় রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ের ছবিটাও ছিল একইরকম। তৎকালীন দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী ও তাঁর তরুণ ব্রিগেডের জয়জয়কার শুরু হয় চারদিকে। যদিও রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী বাছাই করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছিল রাহুলকে। লড়াইটা ছিল দলের প্রবীণদের সঙ্গে নবীন প্রজন্মের। জ্যোতিরাদিত্য না কমলনাথ কে হবেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তা ঠিক করতে শেষপর্যন্ত পবীণদের দিকেই ঝুঁকেছিল কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি। সেইসময় সিন্ধিয়া ও কমলনাথকে নিয়ে একটি ছবি ট্যুইট করেছিলেন রাহুল। নিচে ক্যাপশনে লিও টলস্টয়কে উদ্ধৃত করে লিখেছিলেন ‘‘সব থেকে শক্তিশালী দুই যোদ্ধা হল, ধৈর্য ও সময়।’’ 

 

 

রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ট বৃত্তে ছিলেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া৷ একথা কংগ্রেসের সকলেরই জানা৷ রাহুলের ইচ্ছেতেই ইউপিএ আমলে মন্ত্রী হয়েছিলেন সিন্ধিয়া৷ এমনকি তাঁর ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হওয়ার নেপথ্যেও সেই রাহুল গান্ধীই ছিলেন৷ কিন্তু যখন জ্যোতিরাদিত্যর দল ছাড়া নিয়ে দলের সবাই আক্রমণাত্মক তখন তাঁর বিরুদ্ধে একটাও শব্দ বলেননি রাহুল৷ বুধবার বিজেপির সদর দফতরে গিয়ে গেরুয়া পতাকা হাতে নেওয়ার পর স্মৃতি বিজড়িত রাহুল রিট্যুইট করার জন্য বেছে নিলেন  সিন্ধিয়া ও কমলনাথের সেই ছবিটিকেই।

আরও পড়ুন: অন্তত ১২০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা, শেষপর্যন্ত 'গ্লোবাল প্যানডেমিক' ঘোষণা 'হু'র

জ্যোতিরাদিত্য শিবিরের অভিযোগ ছিল, রাহুল ও সনিয়া গান্ধীকে সমস্যার কথা বলেও লাভ হয়নি। তাই কমলনাথ শিবিরের সঙ্গে ঝামেলার জেরে শেষপর্যন্ত দল ছাড়তে হল জ্যোতিরাদিত্যকে। বুধবার রাহুল বলেন, "জ্যোতিরাদিত্যই এমন একজন ছিলেন যিনি যখন তখন আমার বাড়ি আসতে পারতেন।" জ্যোতিরাদিত্য বিরোধি শিবিরে গেলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও বিরূপ মন্তব্য করেননি রাহুল। একই ভাবে রাহুলের বিষয়ে চুপ থেকেছেবন মাধব পুত্রও। জাতীয় স্তরে কংগ্রেস দলের নবীন নেতৃত্ব স্বীকৃতি পাচ্ছে না বলে এদিনও পরোক্ষে রাহুলের পাশেই দাঁড়াতে দেখা গেছে  জ্যোতিরাদিত্যকেও।