Kundali Excuse Criminal Charges:বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক, তারপর আচমকা 'কুণ্ডলী না মেলা'র অজুহাতে পিছু হটা। এবার এমন ঘটনাতে কড়া বার্তা দিল দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা একটি জামিনের শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন।
Kundali Excuse Criminal Charges:বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক, তারপর আচমকা 'কুণ্ডলী না মেলা'র অজুহাতে পিছু হটা। এবার এমন ঘটনাতে কড়া বার্তা দিল দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court)। বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা একটি জামিনের শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন, যা নিয়ে আইনমহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। মামলার অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায় আট বছর ধরে এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি বারবার বিয়ের আশ্বাস দেন। এমনকি কুণ্ডলী বা জন্মছক মিল নিয়েও কোনও সমস্যা হবে না বলে আশ্বস্ত করেন বলে অভিযোগ। ওই আশ্বাসের ভিত্তিতেই তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযুক্ত কুণ্ডলী না মেলার অজুহাত তুলে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন
তবে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রথমবার অভিযোগ দায়ের হলেও, অভিযুক্ত ও তাঁর পরিবারের নতুন করে বিয়ের প্রতিশ্রুতির পর তরুণী তা প্রত্যাহার করেন। কিন্তু পরে হঠাৎ করেই অভিযুক্ত কুণ্ডলী না মেলার অজুহাত তুলে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। এর জেরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নতুন করে এফআইআর দায়ের হয়। এরপর ভারতীয় দণ্ডবিধির ধর্ষণ সংক্রান্ত ধারা এবং নতুন আইনের ৬৯ নম্বর ধারায় মামলা রুজু হয়। নতুন ফৌজদারি আইনে, অর্থাৎ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, প্রতারণা বা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই ধারায় সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানায়, ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা কুণ্ডলী মেলেনি। এমন যুক্তি দিয়ে দায় এড়ানো যায় না, যদি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় যে বিয়ের আশ্বাস ছিল অসৎ উদ্দেশ্যে দেওয়া।
ঠিক কী ঘটেছিল
অভিযুক্তের আইনজীবী দাবি করেন, সম্পর্কটি পারস্পরিক সম্মতিতেই হয়েছিল এবং বিয়ে না হওয়া মানেই অপরাধ নয়। কিন্তু আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানায়, বারবার বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর হঠাৎ কুণ্ডলী না মেলার অজুহাত তোলা প্রাথমিকভাবে প্রতিশ্রুতির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তদন্ত চলাকালীন এই আচরণকে হালকাভাবে দেখা যায় না।
এখনও চার্জশিট জমা পড়েনি
চলতি বছর ৪ জানুয়ারি অভিযুক্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। এখনও চার্জশিট জমা পড়েনি। তবে মামলার প্রকৃতি ও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত নিয়মিত জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেয়, সব ভেঙে যাওয়া সম্পর্কই ফৌজদারি অপরাধ নয়। কিন্তু যদি প্রমাণিত হয় যে শুরু থেকেই প্রতারণার মাধ্যমে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে, তা হলে আইন তার নিজস্ব পথে চলবে। এই পর্যবেক্ষণ ঘিরে সামাজিক মাধ্যম ও আইনমহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কী বার্তা আদালতের
অনেকের মতে, নতুন আইনের অধীনে 'বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি' সংক্রান্ত মামলাগুলিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে। যদিও এটি জামিনের পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ, চূড়ান্ত রায় নয় তবু কুণ্ডলী না মেলার অজুহাত যে স্বয়ংক্রিয় রক্ষাকবচ নয়, সেই বার্তাই স্পষ্ট করল দিল্লি হাই কোর্ট।


