তৃণমূলের জন্য আরও বড় ধাক্কা এল বৃহস্পতিবার সকালে। রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রকাশ চিক বারাইক। এনিয়ে চলতি সপ্তাহেই তৃণমূলের ৩ জন রাজ্যসভার সাংসদ ইস্তফা দিলেন। ২০২১ সালে তৃণমূলে যোগ দেওয়া কংগ্রেসের প্রাক্তন নেত্রী সুস্মিতা দেব দল ছাড়ার ঠিক পরের দিনই প্রকাশ চিক বারাইক পদত্যাগ করলেন।

তৃণমূলের জন্য আরও বড় ধাক্কা এল বৃহস্পতিবার সকালে। রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রকাশ চিক বারাইক। এনিয়ে চলতি সপ্তাহেই তৃণমূলের ৩ জন রাজ্যসভার সাংসদ ইস্তফা দিলেন। ২০২১ সালে তৃণমূলে যোগ দেওয়া কংগ্রেসের প্রাক্তন নেত্রী সুস্মিতা দেব দল ছাড়ার ঠিক পরের দিনই প্রকাশ চিক বারাইক পদত্যাগ করলেন। এর আগে চলতি সপ্তাহেই সুখেন্দু শেখর রায় দল ও রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মহলে এক অভূতপূর্ব বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। সেখানে দলের ৫৮ জন বিধায়ক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিরোধী দলনেতা পদের জন্য শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন জানিয়েছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বারাইকের পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমে ১০-এ নেমে আসতে চলেছে। সূত্রের খবর, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তৃণমূলের আরও তিনজন রাজ্যসভা সাংসদ পদত্যাগ করতে পারেন, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলের সংকটকে আরও গভীর করে তুলতে পারে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেই পরিচিত প্রকাশ চিক। ২০২৩ সালে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল তৃণমূল। পরে ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে আলিপুরদুয়ার থেকে প্রার্থীও করা হয়েছিল তাঁকে। যদিও হেরে যান তিনি। 

পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন: "আমি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করছি এবং অনুরোধ করছি যেন তা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়। রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে আমার কার্যকালে যে সহায়তা ও সহযোগিতা পেয়েছি, তার জন্য আমি চেয়ারম্যান, ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং রাজ্যসভা সচিবালয়ের সকল আধিকারিকের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।"

তৃণমূল সাংসদদের মধ্যে এই সংকটের সূত্রপাত হয় সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সহযোগী সুখেন্দু শেখর রায়ের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে। সেই সময় তৃণমূল নেত্রী দিল্লিতে ছিলেন এবং সনিয়া গান্ধী-সহ ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছিলেন। বিজেপির বিরুদ্ধে জাতীয় স্তরে বিরোধী কৌশল নির্ধারণ এবং বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর দলের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনার জন্যই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।

দিন দিন নিজের বিধায়ক দলের ওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ শিথিল হয়ে আসছে বলে মনে হচ্ছে; তাঁর দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনই বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এই সংখ্যা এখন বেড়ে ৬৪-তে দাঁড়িয়েছে। ঋতব্রত দাবি করেছেন যে, আগামী দিনগুলোতে আরও বিধায়ক বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেবেন।