নাগরিকত্ব আইন নিয়ে উত্তাল গোটা দেশ। প্রতিবাদ-বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে দিল্লির শাহিনবাগ থেকে কলকাতার পার্কসার্কাসে। তারই মধ্যে ১০জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে দেশে নাগরিকত্ব আইন লাগু করেছে কেন্দ্র। ক্ষোভ-বিক্ষোভ আন্দোলন প্রতিবাদের মধ্যে এবার হায়দরাবাদের চারমিনারের কাছে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় নাকাবন্দি করে নথি চাইল তেলেঙ্গানা পুলিশ। গোটা এলাকা ঘিরে রেখে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আধার কার্ড, গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের কাগজ দেখতে চেয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন- 'লাজলজ্জহীনদের মতো কথা বলছেন!' সিএএ ইস্যুতে বুদ্ধিজীবীদের অশালীন বিজেপি সাংসদের 

আরও পড়ুন- জলপথে এবার নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ, জাতীয় পতাকা নিয়ে নৌকায় আন্দোলনকারীরা

এমনকী বাচ্চারা কোন স্কুলে পড়ে, এলাকার বাসিন্দারা যে বাড়িতে থাকেন সেটা ভাড়া বাড়ি নাকি নিজেদের বাড়ি সে সব তথ্যও খুঁটিয়ে জানতে চেয়েছে রাজ্য পুলিশ। আরও আশ্চর্যজনক ঘটনা হল বেশ কয়েকজন মশলা ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে হলুদ গুঁড়ো থেকে অন্যান্য কিছু গুঁড়ো মশলা। শক্করগুনি এলাকায় এভাবে নাকাবন্দি করে তথ্য সংগ্রহ অভিযানের কথা জানতে পেরে এলাকার মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন বিধায়ক মুমতাজ আহমেদ খান। বাসিন্দাদের এমন হয়রানির কথা শুনে সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। নিন্দা করেন পুলিশি আচরণের। কিন্তু টুঁ শব্দটিও করেননি অল-ইন্ডিয়া-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন বা এআইএমআইএমের সাংসদ আসাউদ্দিন ওয়েইসি।

নীরব রয়েছেন তাঁর ভাই তথা বিধায়ক আকবরুদ্দিনও। কিন্তু মুসলিম মহল্লায় এমন পুলিশি হেনস্থার পরেও কেন নীরব রয়েছেন ওয়েইসি সে প্রশ্ন তুলেছেন সাংসদ কে ভেঙ্কট রেড্ডি। রেড্ডির কথায়— আসলে সরকারের শরিক এমআইএম। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের বন্ধু আসাউদ্দিন। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ওয়েইসি।

আরও পড়ুন- কোন মাপকাঠিতে দেশের সেরা প্রধানমন্ত্রী, মোদী প্রশ্নে 'জর্জরিত' বেলুড়

চন্দ্রশেখর জানিয়েছিলেন নাগরিকত্ব আইন বিরোধী মিছিল হবে। কিন্তু সেই ঘোষণার পর থেকেই সব চুপচাপ। ওয়েইসি নাটক করতে পছন্দ করেন। মুসলিম সমাজের উন্নতি চান না বলেও মন্তব্য করেছেন ভেঙ্কট। এসবের উত্তর ওয়েইসিকে দিতে হবে বলেও দাবি করেছেন ভেঙ্কট রেড্ডি। পুলিশের এ ধরনের অভিযানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সমাজকর্মীরাও। তাদের মতে এধরনের অভিযান সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু ২০১৫ সাল থেকে তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির সরকারের আমলে এমনটা হয়ে আসছে।

চারমিনার এলাকার এই অভিযান নিয়ে পুলিশ মুখ না খুললেও এধরনের অভিযানের স্বপক্ষে পুলিশের বক্তব্য হল অপরাধের মাত্রা কমাতে এই ধরনের হানাদারি সাহায্য করে। ২০১৯ সালে সংবাদপত্রে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল।হায়দরাবাদ সিটি পুলিশের বার্ষিক রিপোর্ট বলছে, অপরাধের মাত্রা নামিয়ে আন‌তে এ ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়। হায়দরাবাদ সিটি পুলিশ এলাকায় এমন ১৯২টি তল্লাশি অভিযান হয়েছে যার ফলে, প্রায় ২৫০০ হাজার বেআইনি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা গিয়েছে। ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত এলাকাতেই এধরনের অভিযান করার রেকর্ড রয়েছে তেলেঙ্গানাপুলিশের। তবে পুলিশের এই আচরণে রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকার মহিলারা। তাদের বক্তব্য এ সব অভিযান এমন সময়ে হয়ে থাকে যখন বাড়িতে পুরুষ সদস্যরা কাজে বাইরে থাকেন। ফলে আত্ঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।কিন্তু একাংশের প্রশ্ন‌ে বুধবারই সরকার জানিয়েছে আগামী ১লা এপ্রিল ৩০ শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে জনগণনার প্রথম পর্বের কাজ শুরু হবে। জনগণনার প্রথম ধামূলত প্রত্যেক নাগরিকের বাড়ি চিহ্নিত করা হবে।তবে কি তারই মহড়া শুরু করে দিল কে চন্দ্রশেখরের সরকার?