বেলুড় মঠে মোদীর নাগরিকত্ব মন্তব্য় নিয়ে ঝড় উঠেছে রাজ্য়ে । ধর্মীয় স্থানে দাঁড়িয়ে মোদীর এই ভাষণের সমালোচনা করেছেন অনেকেই। তবে মোদীকে দেশের অন্যতম সেরা প্রধানমন্ত্রী বলায় পাল্টা বেলুড় মঠের 'অরাজনৈতিক ভূমিকা' নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কোন  ভিত্তিতে মোদী 'দেশের সেরা প্রধানমন্ত্রী' সেই প্রশ্নের জবাব দিতে প্রশ্নবানে জর্জরিত বেলুড়। 

'বিষ ছড়ানো নেতারা ঘরে', কাশ্মীর নিয়ে দিদিকে পাল্টা বাবুলের

ধর্মীয় মঞ্চ থেকে মোদীর নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রচারের নিন্দা করছেন বিরোধীরা। বিরোধীদের অভিযোগ, বেলুড় মঠের মতো জায়গাকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসাবে ব্য়াবহার করে ঠিক করেননি প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্য়মে বেলুড় মঠের ভাবমূর্তিতে দাগ লেগেছে। যদিও বিরোধীদের এই প্রশ্নের উত্তরে অন্য কথা বললে মঠ কর্তৃপক্ষ।

বিশিষ্টরা 'ননসেন্স, নেমক হারাম', সব্যসাচী- ধৃতিমানদের বেলাগাম আক্রমণ দিলীপের

জাতীয় যুব দিবসে বেলুড় মঠের ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা যায় সিএএ প্রসঙ্গ। যা নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্য়ায় বলেছেন, নিজেকে লজ্জিত মনে হচ্ছে। আমার মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে। মঠকে রাজনৈতিকে আখড়া হিসেবে ব্যবহার করেছে প্রধানমন্ত্রী। আমি এই কথা পরবর্তীকালেও তুলব। বেলুড় মঠের সভামঞ্চ ব্যবহার করে তিনি রাজনীতির করেছে এটা অত্যন্তই লজ্জার বিষয়।

স্বস্তিকাদের 'কাগজ আমরা দেখাব না'র পাল্টা, 'কাগজ কেউ চাইবেই না' বাবুলের

একই কথা শোনা গিয়েছে সিপিএম-এর পলিটব্য়ুরো সদস্য মহম্মদ সেলিমের গলায়। তিনি  বলেন, উনি সরকারি কাজে এসেছেন। ওনার বেলুড় মঠকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত হয়নি। যদিও এ বিষয়ে বেলুড় মঠে সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুবীরানন্দ মহারাজ বলেন , 'আমাদের এই ব্যাপারে  কোনও প্রতিক্রিয়া নেই। কারণ আমরা সংসারে এসেছি টু রেসপন্স টু ইটারনাল কল। আর এসব কথাবার্তা হচ্ছে রেসপন্ড টু এপিমিরাল কল। জাগতিক ব্যাপারে আমরা রেসপন্ড করি না। আমরা এ কারণেই ঘর দোর ছেড়ে এসেছি। আমরা বিশ্বাস করি, ঈশ্বর লাভই মানব জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য।'

রাজ্যে আবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা, কলকাতা-সহ জেলাগুলিতে বৃদ্ধি পেতে পারে তাপমাত্রা

তবে এসবের উত্তর না দিলেও  মোদীকে ঘরের ছেলে  বলে সম্বোধন করেন মহারাজ। তিনি বলেন,' বেলুর মঠে তিনি এসেছেন । এটা ঘরের ছেলের ঘরে ফেরার মতো। এটা সত্যি কথা। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি আমাদের সম্মানীয় অতিথি। এটা অত্যন্ত গর্বের বিষয়, যে ১২০ কোটির দেশের প্রধানমন্ত্রী বলছেন, আমি এই প্রতিষ্ঠানে যেতে চাই ও রাত কাটাতে চাই। সেখানে অতিথি হিসাবে কোনও তিনি যদি কিছু বলেন, তা নিয়ে হোস্টদের কোনও নেতিবাচক টিপ্পনি করা উচিত নয়। এটাই ভারতীয় সংস্কৃতি।'

যদিও মঠের সাধারণ সম্পাদক সুবীরানন্দ মহারাজের মোদী সম্পর্কে মঞ্চে বক্তব্য় ঘিরেই তৈরি হয়েছে গুঞ্জন। নিজেদের অরাজনৈতিক বললেও কোন যুক্তিতে তিনি মোদীকেদেশের অন্য়তম সেরা প্রধানমন্ত্রী বলেন তা নিয়ে  উঠেছে প্রশ্ন। বিরোধীদের বক্তব্য়,  মোদীর আমলেই ধর্মের ভিত্তিতে দেশ বিভাজনের অভিযোগ উঠেছে। তা সত্ত্বেও মোদী সম্পর্কে এই কথা বললেন সুবীরানন্দ।  

এ বিষয়ে প্রকাশ্য়ে মুখ না খুললেও সন্ন্য়াসীদের একাংশ জানাচ্ছেন, দ্বিতীয় বার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন মোদী।  কাজের ভিত্তিতেই তাঁকে আগের থেকেও বেশি লোক দ্বিতীয় বার সমর্থন করেছেন বল মত সন্ন্যাসীদের। তথ্যের উপরে ভিত্তি করেই ওই কথা স্বাগত ভাষণে বলেছিলেন সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক।