Bihar CM: বিহারের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে সর্বসম্মতিক্রমে বিহারে বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। সম্রাট চৌধুরী বসতে চলেছেন বিহারের মুখ্য়মন্ত্রীর চেয়ারে।
বিহারের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে সর্বসম্মতিক্রমে বিহারে বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণা করেছেন বিহারের জন্য বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শিবরাজ এই মুহূর্তটিকে "এক আবেগঘন এবং ঐতিহাসিক মুহূর্ত" বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "জনসংঘের সময় থেকে যাঁরা বিজেপির সংগঠন তৈরি করতে সাহায্য করেছেন, আজ তাঁদের স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে। তাঁদের সংকল্প আজ পূর্ণ হল... আমি সম্রাট চৌধুরীকে অভিনন্দন জানাই।"
বিহারে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী
এই ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নবনির্বাচিত নেতার এক আত্মীয় রামচন্দ্র সিং। তিনি এই মুহূর্তকে "হৃদয় থেকে আসা আনন্দের ঢেউ" বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২০০০ সালের কথা মনে করে বলেন, যখন সম্রাট চৌধুরী প্রথমবার বিধায়ক হয়েছিলেন। রামচন্দ্র সিং বলেন, "২০০০ সালে উনি প্রথমবার এই কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর এই প্রথম আমরা আমাদের পছন্দের একজন প্রতিনিধি পেয়েছিলাম। ওঁর মতো বিধায়ক আমরা আগে কখনও পাইনি।" সম্রাট চৌধুরীই হবেন বিহারে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।

নীতিশ কুমারের পদত্য়াগ
এই পালাবদলটি ঘটেছে বিহারের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের পদত্যাগের পর। প্রায় ২১ বছর মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকার পর তিনি পাটনার লোক ভবনে রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইন (অবসরপ্রাপ্ত)-এর কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে গত ১০ এপ্রিল তিনি রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। বিজেপি সাংসদ রাজীব প্রতাপ রুডি বলেন, "উনি পদত্যাগ করেছেন। বিহারের ইতিহাসে একটা ভালো অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। নীতিশ কুমারের ক্ষমতা হস্তান্তর তাঁর মহানুভবতার পরিচয় দেয়। তিনি একজন রাষ্ট্রনেতা। তিনি পরিবর্তনের পথ খুলে দিয়েছেন, আর এটা ইতিহাসে লেখা থাকবে।"
ভারতের সব আইনসভায় পা রাখলেন নীতিশ কুমার
বিহারের রাজনীতিতে জোট সামলানোর ক্ষেত্রে নীতিশ কুমারের দক্ষতা এনডিএ-কে ক্ষমতায় থাকতে সাহায্য করেছে। রাজ্যসভায় যোগ দেওয়ার মাধ্যমে নীতিশ কুমারের একটি পুরনো ইচ্ছা পূরণ হল। তিনি ভারতের সবকটি আইনসভায় (বিহার বিধানসভা, বিহার পরিষদ, লোকসভা এবং অবশেষে রাজ্যসভা) সদস্য হতে চেয়েছিলেন। এই পরিবর্তনের ফলে বিহার সরকারের রাশ কার্যত বিজেপির হাতে চলে এল, যা আগামী নির্বাচনের আগে রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণে একটি বড়সড় পরিবর্তন আনল। রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চার জাতীয় সভাপতি উপেন্দ্র কুশওয়াহা এই নতুন দায়িত্বের জন্য সম্রাট চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, "নতুন দায়িত্বের জন্য শ্রী সম্রাট চৌধুরীজিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।" বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার এর আগে পুরনো সচিবালয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগে, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ভারতরত্ন ডঃ বি আর আম্বেদকরের ১৩৫তম জন্মবার্ষিকীতে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। অন্যদিকে, জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর জাতীয় কার্যকরী সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় কুমার ঝা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের নেতৃত্বে বিহারের রাজনৈতিক যাত্রার প্রশংসা করে এই মুহূর্তটিকে রাজ্যের মানুষের জন্য "এক আবেগঘন মুহূর্ত" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সরকার নীতিশ কুমারের দেখানো পথেই চলবে। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ঝা বলেন, নীতিশ কুমারের নেতৃত্বে রাজ্যের যে পরিবর্তন হয়েছে, তা বিহারের মানুষের গর্ব ফিরিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, "এটা বিহারের ১৪ কোটি মানুষের জন্য একটা আবেগঘন মুহূর্ত। আমরা সবসময় বলি যে নীতিশজির আসার আগে আমরা বিহারী বলতে লজ্জা পেতাম, কিন্তু তাঁর আসার পর বিহারের সম্মান ও মর্যাদা অটুট রয়েছে।"


