সোমবার সকালে লাদাখের লেহ-তে ৩.৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎস ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১২০ কিমি গভীরে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই হিমাচল প্রদেশের চম্বা জেলাতেও ৩.০ মাত্রার একটি কম্পন হয়। শুধু তাই নয়, আগের দিন রবিবারও লেহ-তে ৪.৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।

সোমবার সকালে ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল লাদাখের রাজধানী লেহ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) জানিয়েছে, এই কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩.৫। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে NCS জানিয়েছে, ভারতীয় সময় সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। এর উৎস ছিল মাটি থেকে ১২০ কিলোমিটার গভীরে। পোস্টটিতে লেখা হয়েছে, "ভূমিকম্পের মাত্রা: ৩.৫, তারিখ: ২৪/০৮/২০২৬, সময়: সকাল ০৮:২৫:০৭, স্থান: লেহ, লাদাখ।"

হিমাচল প্রদেশেও মৃদু কম্পন

লেহ-র ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা আগেই, সোমবার ভোর ৩টে ৪০ মিনিটে হিমাচল প্রদেশের চম্বা জেলাতেও একটি মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। NCS জানিয়েছে, এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.০ এবং এর উৎস ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার গভীরে।

রবিবারও কেঁপেছিল লেহ

এর আগে রবিবারও লেহ অঞ্চলে ভূমিকম্প হয়েছিল। বিকেল ৩টে ৩৪ মিনিটে হওয়া সেই কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪.৬। NCS-এর তথ্য অনুযায়ী, এর উৎস ছিল ১৫০ কিলোমিটার গভীরে।

ভূমিকম্পের গভীরতা বলতে কী বোঝায়?

সাধারণত, ভূমিকম্প ভূপৃষ্ঠ থেকে শুরু করে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত হতে পারে। ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞানীরা বোঝার সুবিধার জন্য এই গভীরতাকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন: শ্যালো (কম গভীর), ইন্টারমিডিয়েট (মাঝারি গভীর) এবং ডিপ (বেশি গভীর)।

যেসব ভূমিকম্পের কেন্দ্র ০ থেকে ৭০ কিলোমিটার গভীরে থাকে, সেগুলোকে 'শ্যালো' বা কম গভীরতার ভূমিকম্প বলা হয়। ৭০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গভীর হলে তাকে 'ইন্টারমিডিয়েট' এবং ৩০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গভীর হলে তাকে 'ডিপ' বা গভীর ভূমিকম্প বলা হয়। USGS-এর মতে, সাধারণত ৭০ কিলোমিটারের বেশি গভীরতায় হওয়া ভূমিকম্পকেই 'ডিপ-ফোকাস আর্থকোয়েক' হিসেবে ধরা হয়।