অসুখের চেয়ে অসুখের আতঙ্কই ছড়াচ্ছে বেশি। তাই এদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে  ১১জনকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে এখনও পর্যন্ত।

চিনা ভাইরাসে আতঙ্কিত নয়দিল্লিও। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকলেও থাকতে পারেন, চিনফেরত এমন ৮০জনকে কার্যত নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে কেরলে। এঁদের মধ্য়ে ৭ জনের জ্বর, সর্দিকাশি ও গলা ব্য়াথার মতো সামান্য় উপসর্গ দেখা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই, কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ১২ হাজারেও বেশি চিন ফেরত যাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে যে ১১জনকে আক্রান্ত সন্দেহে ভরতি করা হয়েছে, তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এই ১১ জনের মধ্য়ে ৭ জন কেরলের, ২ জন মুম্বইয়ের ও একজন করে বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদের হাসপাতালে ভরতি  হয়েছেন।

তবে দেশের মধ্য়ে কেরলের কপালেই বেশি ভাঁজ পড়েছে। চিনফেরত ৮০ জনকে কার্যত নজরবন্দি করা হয়েছে কেরলে। যদি তাঁরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, এই আশঙ্কায়। কেরলের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত বিষয়ের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অমর ফেতলে বলেন,  "অনেকেই চিন থেকে ফিরেছেন। তাঁদের সর্দি-কাশির হালকা উপসর্গ রয়েছে। চিনে করোনা ভাইরাসের  সংক্রমণ যেভাবে মহামারির চেহারা নিয়েছে, তাতে করে আমরা আর কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাই না।"

জানা গিয়েছে, চিনের সবথেকে  সংক্রামিত হুবেই প্রদেশে বসবাসকারী ভারতীয় ও তাঁদের আত্মীয় পরিজনদের থেকে ঘনঘন ফোন আসছে বেজিংয়ের ভারতীয় দূতাবাসে। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দূতাবাস চিনা প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। খোঁজ রাখা হচ্ছে ভারতীয়দের।

বুধবার জানা গিয়েছিল, সৌদি আরবের হাসপাতালে কর্মরত এক ভারতীয় নার্স করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। যদিও সৌদির স্বাস্থ্যমন্ত্রক সে খবর  অস্বীকার করেছে। এদিকে, নয়াদিল্লির কপালে আরও ভাঁজ পড়েছে, যখন জানা গিয়েছে, চিনে এই ভাইরাসের উৎস বলে চিহ্নিত উহান শহরে থাকেন বহু ভারতীয় পড়ুয়া।  এরমধ্য়ে চিনের বিভিন্ন প্রান্তে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট ৪১ জনের মৃত্য়ু হয়েছে। সংক্রমণ রুখতে উহানের পাশাপাশি আরও ১১ টি শহরকে এক প্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।