শীলা দিক্ষিতের নিপুন নেতৃত্বে একসময় ১৫ বছর দিল্লি বিধানসভায় রাজত্ব করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু রাজধানীর বুকে এখন সেই শতাব্দী প্রাতীন দলের অস্বিত্বই প্রায় সংকটের মুখে। সারা দেশের মত রাজধানী দিল্লিতেও ক্রমহ্রাসমান দলের জনপ্রিয়তা। ২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একটি আসনেও জয়ী হননি কংগ্রেস প্রার্থীরা। সেই ধারা বজায় থেকেছে ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও। এবারও রাজধানীর বুকে একটি আসনেও জয়ধ্বজা ওড়াতে পারেনি  হাত শিবির।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে কেজরি ঝড়ে ধূলিস্যাৎ গেরুয়া স্বপ্ন, তবে ভোট বাড়ল বিজেপির

গতবছর লোকসভা ভোটে সারা দেশে ৫০টি আসনও জোটেনি কংগ্রেসের ঝুলিতে। লোকসভা ভোটে রাজধানীর ৭টি আসনেই হারতে হয়েছে  কংগ্রেসকে। তবে এবারের বিধানসভা ভোটে ফল এতটা খারাপ হবে না বলেই আশাবাদী ছিলেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। দল দিল্লিতে খাতা খুলবে বলেই বিশ্বাস ছিল শীর্ষ নেতৃত্বের। কিন্তু দিল্লিবাসী এবারও মুখ ফিরিয়ে রাখল শতাব্দী প্রাচীন দলের থেকে। গতবারের থেকে এবার ভোটও কমেছে কংগ্রেসের। ২০১৫ সালের বিধানসভায় যেখানে কংগ্রেসের ঝুলিতে ছিল ১০ শতাংশ ভোট এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ শতাংশে। 

আরও পড়ুন: জয়-পরাজয় নিয়ে দার্শনিক ব্যাখ্যা, নতুন পোস্টারে মান বাঁচাচ্ছে গেরুয়া শিবির

সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়ার কারণেই ভোটের ময়দানে পিছিয়েছে কংগ্রেস। এমনটাই মনে করছেন দলের নেত্রী তথা দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কন্যা শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়। " আবার দিল্লিতে আমাদের শক্তি কমেছে। এখন আমাদের পদক্ষেপ করতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করা, কৌশলের অভাব ও দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তৃণমূল স্তরের সংযোগ না থাকা- সাব কিছুই রয়েছে এই হারের কারণে। এই সিস্টেমের অংশ হিসাবে আমাকেও দায়িত্ব নিতে হবে।" ট্যুইট করেছেন প্রণব কন্যা।

 

জনমত সমীক্ষাতেই দিল্লিতে যে ফের কেজরিওয়াল ফিরতে চলেছেন তার আভাস মিলেছিল। সেই সমীক্ষাই সত্যি প্রমাণ হল ভোটের ফলাফলে। একক সংখ্যা গরিষ্ঠাতার থেকে অনেক বেশি আসন পেয়েছে আম আদমি পার্টি। গত বছরের তুলনায় ভোটের শতাংশেও খুব একটা বেশি হেরফের হয়নি আম আদমি পার্টির। অন্যদিকে ১৯৯৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দিল্লিতে ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেস ২০১৫ সালের মত এবারও দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে খাতা খুলতে ব্যর্থ হল।