করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিহত করার জন্য দ্রুততার সঙ্গে দেশের সমস্ত নাগরিককে টিকা দেওয়ার দাবি তুলেছেন একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদরা। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিয়েছে সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই টিকাকরণের রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে। আর সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে টিকাকরণের কাজ চলবে। এখনই দেশের সমস্ত নাগরিকে টিকা দেওয়ার দাবিও খারিজ করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ। তিনি বলেছেন টিকাকরণ কর্মসূচি যেভাবে চলছে সেভাবেই চলবে। তৃতীয় ধাপে ৪৫ বছরের উর্ধ্বে সকল নাগরিককে টিকা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেছেন চাহিদা নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী টিকাকরণের ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যেই দেশের প্রায় আট কোটি নাগরিককে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে। ১ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় পর্বে টিকাকর্মসূচি চলছে দেশজুড়ে। পয়লা এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে তৃতীয় দফার টিকাকর্মসূচি।  

টিকা গ্রহণের পরে অসুস্থতা এড়াতে কতগুলি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সেগুলি হল-

করণীয়ঃ
স্থানীয় কোনও চিকিৎসকের বা পরিবারিক চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। জেনে নিন টিকা কী ভাবে কাজ করে।
যদি অ্যালার্জি বা ওষুধে অ্যালার্জি থাকে তাহলে চিকিৎসকের কাছে সে  সম্পর্কে পরিষ্কার হতে হবে। 
প্রয়োজনে চিকিৎসক কিছু রুটির পরীক্ষার আদেশ দিতে পারেন 
ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, হাইপ্রেসারের রোগীদের বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করা জরুরি। নিতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ। 
ভ্যাকসিন নিতে বার হওয়ার আগে হালকা খাবার খাবেন। তবে ভ্য়াকসিন নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারি খাবার না খাওয়াই ভালো। 
কাউন্সিলিংএর সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাহায্য করুন। মনে রাখবেন আরও পাঁচটি টিকার মতই করোনাভাইরাসের টিকা। 
ভ্যাকসিন নিতে যাওয়ার সময় হালকা ও আরামদায়ক পোষাক পরুন। মাস্কের ব্যবহারও অত্যন্ত জরুরি। 
টিকা  কেন্দ্রে নূন্যতম নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাতে হবে। 

অকরণীয়ঃ
টিকাপ্রদানকারীদের কাছে নিজের অসুস্থতা বা অস্বস্তি লুকিয়ে যাবে না। 
ভ্যাকসিন নেওয়ার আগে বা পরে মাদক জাতীয় দ্রব্য এড়িয়ে চলা উচিৎ। 
টিকাকেন্দ্র করোনা প্রোটোকল মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে অস্বস্তি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। 
টিকা নেওয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। নিজেরি ইচ্ছে মত ওষুধ না খাওয়াই শ্রেয়। 

কেন এখনই সবার জন্য করোনাভাইরাসের টিকা নয়, কেন্দ্রের এই নীতির কারণ জানালেন রাজেশ ভূষণ ...

টিকা দেওয়ার পরঃ
যে হাতে টিকা দেওয়া হয়েছে সেখানে ফোলা ভাব থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। 
জ্বর, ক্লান্তি, মাথা ব্যাথার মত সমস্যা দেখা দিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এগুলি নিয়ে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। কয়েক দিনের মধ্যে এজাতীয় সমস্যা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। 
টিকা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যদি গুরুতর অ্যালার্জি হয় তাহলে টিকাকেন্দ্রেই তাৎক্ষণিত তদারকি করা হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে সমস্যা দেখা দিলে টিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে টোল ফ্রি নম্বরেও ফোন করেতে হবে। 

আলাপ করুন দুই নার্সের সঙ্গে, যাঁরা করোনাভাইরাসের টিকা দিলেন প্রধানমন্ত্রীকে ...

সতর্কতাঃ 
টিকা নেওয়ার পরে চিকিৎস যদি কোনও পরামর্শ না দেয় তবে প্রচুর পরিমাণে জল খাবেন। 
টিকা সঙ্গে সঙ্গে রোগমুক্ত করে না। 
টিকার কার্যকারিতা শুরু হয় দ্বিতীয় ডোজের কিছু দিন পরে। 

দায়িত্ব পালন না করেই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে কতগুলি রাজ্য, করোনা মহামারি ও টিকা ইস্যুতে বললেন হর্ষ বর্ধন...
কারা কারা টিকা গ্রহণ করবে না? 

বিশেষজ্ঞদের কথায় যেসব ব্যক্তি গত দেড় মাসের মধ্যে করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হয়েছেন বা প্লাজমা থেরাপি চলছে অর্থাৎ অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে তাঁদের টিকা গ্রহণ থেকে বিরত থাকা জরুরি।  তবে টিকা পছন্দ করতে পারবন না সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে দেশে সেরামের কোভিশিল্ড ও ভারত বায়োটেকের কোভ্যাকসিন টিকা হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। আপাতত গর্ভাবতী মহিলা ও স্তনদানকারী মহিলাদের করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হবে না। 

অ্যালকোহলঃ
কোভিড টিকা গ্রহণের পর অ্যালকোহল পান করা যাবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে অ্যালকোহল কোভিড ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অ্যালকোহল অ্যান্টিবডি বিকাশে ক্ষতি করতে পারে না-এমনই ধারনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।