দিল্লি, পঞ্জাব ও মহারাষ্ট্র সরকার এখনই সকলের জন্য করোনা টিকা প্রদানের দাবি তুলেছে। আর এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি টিকা কর্মসূচি নিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরাতে চাইছে বলেই সরব হয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। বুধবার কেন্দ্রীয় সংবাদ সংস্থা পিআইবির মাধ্যমে জারি করা একটি নির্দেশিকায় হর্ষ বর্ধন দাবি করেছেন, করোন-মহামারির প্রসঙ্গে কয়েকটি রাজ্যের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য তিনি রীতিমত হতাশ হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্ত ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

আলাপ করুন দুই নার্সের সঙ্গে, যাঁরা করোনাভাইরাসের টিকা দিলেন প্রধানমন্ত্রীকে ..

হর্ষ বর্ধন বলেন সম্প্রতি করোনাভাইরাস মহামারির নতুন ঢেউ-এর মুখোমুখি হয়েছে দেশ। এই পরিস্থিতি কয়েকটি রাজ্য সরকারের মন্তব্য রীতিমত অস্বস্তিকর বলেও জানান হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কতগুলি রাজ্যে গত এক বছর ধরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে লাগাম টানতে ব্যর্থ হয়েছে। আর নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই সকলের জন্য টিকার দাবি তোলা হয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করেই টিকা প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন রাজনৈতিক নেতাদের একাংশ চাইছেন ১৮ বছরের উপরে প্রত্যেক নাগরিকদের অবিলম্বে টিকা দেওয়া হোক ও টিকাদানের যোগ্যতার জন্য নূন্যতম বয়সের মানদণ্ডকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে হ্রাস করা হোক। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে আলোচনা করেই টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছ। টিকার চাহিদা ও সরবরাহের গতি নিয়ে প্রতি মুহূর্তে রাজ্যসরকারগুলিকে যাবতীয় তথ্য জানান হচ্ছে।  

করোনা টিকা নিয়ে সতর্কতা, জেনে নিন কাদের কাদের টিকা দেওয়া হচ্ছে না ..

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী টিকা দেওয়ার মূল্য লক্ষ্যই হল মৃত্যু  কমানো আর মহামারিকে প্রতিহত করা। আর সেই কারণেই ধাপে ধাপে টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েকটি রাজ্য এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্য কর্মী প্রথম সারির করোনা যোদ্ধা ও বয়স্কদের পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকা প্রদান করে উঠতে পারেনি। তালিকায় প্রথম নাম মহারাষ্ট্র বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন ১০টি রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৯০ শতাংশ টিকাকরণের কাজ করতে পেরেছে। তিনি আরও বলেন, গতবছর স্বাস্থ্য মন্ত্রী হিসেবেও তিনি লক্ষ্য করেছেন যে মহারাষ্ট্র সরকার করোনা মহামারি প্রতিহত করতে যথেষ্ট গাফিলতি করেছে। মহারাষ্ট্র সরকারকেও করোনাভাইরাস সংক্রান্ত যাবতীয় নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।