কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরুগামী স্পাইসজেটের একটি ফ্লাইট ছাড়তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেরি হয়। এর জেরে কলকাতা বিমানবন্দরে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং ক্ষুব্ধ যাত্রীরা কর্মীদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান।

স্পাইসজেটের একটি ফ্লাইটের কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরু যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেলেও ফ্লাইট না ছাড়ায় বিমানবন্দরে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সঠিক কোনও তথ্য না পেয়ে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা এয়ারলাইন্সের এক কর্মীকে ঘিরে ধরে জবাবদিহি চাইতে শুরু করেন।

অভিষেক নামের এক এক্স (X) ব্যবহারকারী কলকাতা বিমানবন্দরের এই বচসার ভিডিও শেয়ার করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জ্বালানির টাকা মেটাতে পারেনি বলেই ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ যাত্রীরা স্পাইসজেটের এক কর্মীকে ঘিরে ধরেছেন এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে তাঁর কাছে কৈফিয়ত চাইছেন।

একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, এক যাত্রী ওই কর্মীর দিকে আঙুল তুলে রাগের মাথায় কথা বলছেন। কর্মীর অস্পষ্ট উত্তরে বিরক্ত হয়ে তিনি বলেন, "আমি এতক্ষণ ধরে তোমার সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলছি, আমাকে আজেবাজে উত্তর দিও না।"

ওই কর্মী যাত্রীকে শান্ত করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই ব্যক্তি রেগে গিয়ে বলেন, "মুখ বন্ধ রাখো, আমার এখনই উত্তর চাই।"

Scroll to load tweet…

জানা গিয়েছে, ওই কর্মী যাত্রীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে জ্বালানির ক্লিয়ারেন্স এখনও পাওয়া যায়নি এবং এই সমস্যার সমাধানে তাঁর বিশেষ কিছু করার নেই। কিন্তু তাঁর এই উত্তরে যাত্রীরা শান্ত হননি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা এবং কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনও যোগাযোগ না করায় তাঁদের ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে।

ভিডিওগুলি শেয়ার করে অভিষেক দাবি করেন, সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কলকাতা-বেঙ্গালুরু ফ্লাইটটি ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু স্পাইসজেট জ্বালানির টাকা না মেটানোয় সেটি উড়তে পারেনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এয়ারলাইন্সের কর্মী সংখ্যাও কম ছিল। এমনকি যাত্রীদের বোর্ডিং পাস স্ক্যান করার মতো পর্যাপ্ত কর্মীও সেখানে ছিলেন না।

এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আটকে পড়া যাত্রীদের সাহায্য না করা, অব্যবস্থাপনা এবং সঠিক যোগাযোগের অভাবের কারণে অনেকেই এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কড়া সমালোচনা করেছেন।

এক ব্যবহারকারী তো এয়ারলাইন্সটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি তুলেছেন। তিনি জানান, যাত্রীরা ভোর ৪টের সময় বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন এবং খাবার বা জল ছাড়াই তাঁদের ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

অন্য এক ব্যবহারকারী ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে আরও প্রতিযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দেশে আরও বেশি দেশীয় এয়ারলাইন্স থাকলে যাত্রীরা ভালো বিকল্প পেতেন, বিশেষ করে যখন বর্তমান সংস্থাগুলি সন্তোষজনক পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।