Sexual Harassment:কর্মক্ষেত্রে মহিলা সহকর্মীর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা কি অপরাধ?এই প্রশ্ন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল বোম্বে হাইকোর্ট। বিষয়টি অস্বস্তিকর হতে পারে, কিন্তু কোনও মহিলা সহকর্মীর স্তনের দিকে তাকানো অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। এমনটাই বলল আদালত।

Sexual Harassment: কর্মক্ষেত্রে মহিলা সহকর্মীর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা কি অপরাধ? এই প্রশ্ন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল বোম্বে হাইকোর্ট। বিষয়টি অস্বস্তিকর হতে পারে, অনৈতিকও, কিন্তু কোনও মহিলা সহকর্মীর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা, তাঁর স্তনের দিকে তাকানো অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। এক সংবেদনশীল মামলায় সম্প্রতি এমনই রায় দিয়েছে বম্বে হাই কোর্ট। আদালত বলছে, গোপন নজরদারি বা উঁকিঝুঁকি বলতে যা বোঝায়, অফিসের পরিবেশে মহিলা সহকর্মীর দিকে তাকিয়ে থাকাটা সেই অপরাধের তালিকায় পড়ে না।

২০১৫ সালের মুম্বইয়ের এক অফিসে মহিলা কর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে চলছে এই মামলা

একটি মামলায় আদালত জানিয়ে দিয়েছে, অফিস মিটিংয়ের সময় কোনও মহিলা সহকর্মীর বুকে তাকিয়ে থাকা আচরণ অশোভন হলেও তা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪সি ধারায় 'ভয়্যারিজম' বা গোপনে নজরদারির অপরাধের আওতায় পড়ে না। এই রায় দেন বিচারপতি অমিত বোরকার-এর সিঙ্গল বেঞ্চ। মামলাটি ২০১৫ সালের, মুম্বইয়ের বোরিভলি থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআর (FIR) ঘিরে এই শুনানি হয়। অভিযোগকারী ছিলেন একটি বেসরকারি বিমা সংস্থার এক মহিলা কর্মী, যিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। অভিযুক্ত ওই সংস্থার সহ-সভাপতি পদে কর্মরত ছিলেন বলে জানা যায়।

কী অভিযোগ ছিল

অভিযোগ ছিল, অফিস মিটিংয়ের সময় অভিযুক্ত ইচ্ছাকৃতভাবে চোখে চোখ না রেখে তাঁর বুকের দিকে তাকিয়ে থাকতেন। পাশাপাশি, অভিযোগ জানানোর পর তাঁকে অপমানজনক মন্তব্যের শিকারও হতে হয় বলে দাবি করেন ওই মহিলা কর্মী। যদিও সংস্থার অভ্যন্তরীণ তদন্তে আগে থেকেই অভিযুক্তকে ক্লিনচিট দেওয়া হয়েছিল। মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪সি ধারা মূলত সেই সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে কোনও মহিলা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পরিস্থিতিতে রয়েছেন। যেমন বাথরুম, পোশাক পরিবর্তনের জায়গা ইত্যাদি এবং সেখানে তাঁর অজান্তে নজরদারি বা ছবি তোলা হয়। অফিস মিটিং সেই ধরনের 'প্রাইভেট অ্যাক্ট'-এর মধ্যে পড়ে না।

অশোভন কিন্তু অপরাধ নয়!

বিচারপতি বোরকার পর্যবেক্ষণ, "অভিযোগ শুধুমাত্র এই যে, অভিযুক্ত অফিস মিটিংয়ের সময় তাঁর বুকের দিকে তাকিয়েছিলেন। এই ধরনের অবাঞ্ছিত দৃষ্টি অবশ্যই অশোভন, কিন্তু তা ৩৫৪সি ধারার সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না।" আদালত আরও জানায়, আইনের ভাষাকে তার সীমার বাইরে টেনে ব্যাখ্যা করা যায় না। তবে আদালত এটাও স্পষ্ট করেছে, এই ধরনের আচরণ নৈতিকভাবে ভুল, অশালীন এবং কর্মক্ষেত্রে অসদাচরণের পর্যায়ে পড়তে পারে। কিন্তু শুধুমাত্র এই অভিযোগের ভিত্তিতে 'ভয়্যারিজম'-এর মতো ফৌজদারি অপরাধ গঠন করা যায় না।

খারিজ হয় FIR

ফলে ওই মামলায় দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সমস্ত ফৌজদারি প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়। আদালতের মতে, এই মামলা চালিয়ে যাওয়া আইনের অপব্যবহার হবে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়কে সরলভাবে "তাকিয়ে থাকা অপরাধ নয়" বলে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। আদালত শুধুমাত্র ৩৫৪সি ধারার সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করেছে। অন্যদিকে, কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত অভিযোগ POSH আইন অনুযায়ী বিচার হতে পারে। এছাড়া পরিস্থিতি অনুযায়ী আইপিসির ৩৫৪ বা ৫০৯ ধারাও প্রযোজ্য হতে পারে।