পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে রয়েছে। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের উপরে। তবে প্রভাব শুধু এক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভারতে কৃষিকাজেও এর প্রভাব দেখা যেতে পারে। দেশে সারের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে রয়েছে। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের উপরে। তবে প্রভাব শুধু এক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভারতে কৃষিকাজেও এর প্রভাব দেখা যেতে পারে। দেশে সারের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে আগামী মাসগুলিতে এটি একটি সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত ফার্টিলাইজারস অ্যান্ড কেমিক্যালস ট্রাভানকোর লিমিটেড (FACT) এর একজন কর্তা এই বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
সার কেন্দ্রবিন্দু
তথ্য থেকে জানা যায় যে, হরমুজে অবরোধের কারণে ভারত ২০-২৫ শতাংশ সার সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাতের সম্মুখীন হচ্ছে। কারণ, তেলের মতো, উপসাগরীয় দেশগুলি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, সৌদি আরব এবং ওমান থেকে এই প্রণালী দিয়েই পণ্য পরিবহন করা হয়। ভারতের নাইট্রোজেন সার আমদানির আনুমানিক ৬৩ শতাংশ, যার মধ্যে ইউরিয়া এবং অ্যামোনিয়া অন্তর্ভুক্ত এবং ডিএপি বা ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেটের ৩২ শতাংশ এই দেশগুলি থেকে আসে। সৌদি আরব ভারতের পটাশ আমদানির আনুমানিক ৪২ শতাংশের জন্য দায়ী। ইরান থেকে যদিও খুব একটা সার আমদানি করা হয় না। ২০২৪ সালে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব এবং কাতার থেকে ২৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ইউরিয়া কিনেছিল। ইরানের সরবরাহ ছিল মাত্র ২.৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারত ইরান থেকে সরাসরি কেনে না। উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে কেনা সার হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাঠানো হয়, যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে এখন সেই সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। সারের ঘাটতি বা দামবৃদ্ধি কৃষকদের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে এবং খাদ্য নিরাপত্তার সমস্যা তৈরি করতে পারে।
দাম বাড়ছে সারের
ইউরোপে অ্যামোনিয়ার দাম প্রতি টনে ৭২৫ ডলারে পৌঁছেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইউরিয়ার দাম আকাশছোঁয়া। বিশ্বের বৃহত্তম সার রফতানিকারক রাশিয়া এই ঘাটতি পূরণ করবে বলে আশা করা হয়েছিল, কিন্তু এর উৎপাদন ক্ষমতা সীমিত। ইতিমধ্যেই চিন ফসফেট রফতানি নিষিদ্ধ করেছে এবং কাতারে সালফার উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। এই কারণগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র সারের ঘাটতি তৈরি করেছে।
ভারতীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন
ভারত প্রতি মাসে তার প্রয়োজনীয় সারের প্রায় ২০ লক্ষ টন বিদেশ থেকে আমদানি করে। পরিসংখ্যান দেখায় যে আমরা মিউরেট অফ পটাশ (এমওপি) আমদানির উপর ১০০ শতাংশ এবং ডিএপি-র জন্য ৬০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ভরশীল। গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ভারত সরকার সারের ভর্তুকির জন্য প্রায় ১.৯ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ব্যাহত হলে ইউরিয়ার দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। সহজ হিসাব হল হয় সরকারের ভর্তুকির বোঝা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাবে, নয়তো কৃষকদের কৃষি খরচও বৃদ্ধি পাবে। কৃষকরা যদি কম সার ব্যবহার করেন অথবা ব্যয়বহুল সারের কারণে কম ফলনশীল ফসল বেছে নেন, তাহলে শস্য উৎপাদন হ্রাস পাবে। বাজারে যদি কম শস্য পৌঁছয়, তাহলে খাদ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠবে।
যদিও সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতে বর্তমানে কোনও ফসল বোনার মরশুম নেই এবং এটি জুলাইয়ের পরে শুরু হবে। যদি এই পরিস্থিতি ৬ মাস অব্যাহত থাকে, তাহলে সার সরবরাহের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে। এই সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে, সরকার এবং কোম্পানিগুলি ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (DAP) এবং ডাবল সুপার ফসফেট (DSP) মজুত কিনেছে, যা কোনও সমস্যা তৈরি করবে না।
