পঞ্জাবের ফাগওয়ারায় লভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি বা LPU-তে ছাত্রীকে গণধর্ষণ এবং তাঁর আত্মহত্যার দাবিকে ঘিরে শনিবার রাতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই দাবির পর প্রায় ২ হাজার পড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হস্টেলের কাছে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

পঞ্জাবের ফাগওয়ারায় লভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি বা LPU-তে ছাত্রীকে গণধর্ষণ এবং তাঁর আত্মহত্যার দাবিকে ঘিরে শনিবার রাতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই দাবির পর প্রায় ২ হাজার পড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হস্টেলের কাছে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তিতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি কয়েকটি অংশে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত গণধর্ষণ বা আত্মহত্যার অভিযোগের কোনও প্রমাণ মেলেনি। এই ঘটনায় পুলিশের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগও জমা পড়েনি।

জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, LPU-র একটি মহিলা হস্টেলে এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে অথবা তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এই খবর দ্রুত ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি পোস্টে এক কর্মীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলা হয়। এরপর বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হস্টেলের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীরা পরে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। ফলে যান চলাচলও ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর শুরু হয়।

পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা জানলার কাচ ভাঙেন, ইট ও ফুলের টব ছোড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ভবনের অংশে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কপুরথলার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (SSP) গৌরব তুরা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ছাত্রীকে গণধর্ষণ বা আত্মহত্যার দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের কাছে এই সংক্রান্ত কোনও অভিযোগও জমা পড়েনি।

SSP-এর বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু পড়ুয়া দাবি করেছিলেন যে এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। আবার অন্য একটি অংশের দাবি ছিল, ওই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এই দুই ধরনের দাবিকে কেন্দ্র করেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের জেরে জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাস্তা দিয়ে যান চলাচল ফের শুরু হয়।

এই মুহূর্তে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া দাবিগুলির সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।