গোয়ার বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর। স্পষ্ট কথার জন্য পরিচিত এই অভিনেতা একাধিক রাজনৈতিক দলের অফার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তবে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাজের স্টাইলের দারুণ ভক্ত ছিলেন তিনি।

নানা পাটেকর আর নেই। ৭৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন বলিউডের এই দাপুটে অভিনেতা। গোয়ার নিজের বাড়িতেই তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায়। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আজ সাতসকালে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর এই অকাল প্রয়াণ শিল্পজগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

মারাঠি থিয়েটার দিয়ে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন নানা পাটেকর। এরপর সিনেমায় এসে একের পর এক বক্স অফিস হিট ছবি উপহার দিয়েছেন। ঝুলিতে পুরেছেন একাধিক জাতীয় পুরস্কার। তবে শুধু দুর্দান্ত অভিনয় নয়, বরাবরই নিজের সোজা কথার জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি। রাজনীতি নিয়েও নিজের মতামত খুল্লমখুল্লা জানাতেন। ২০২৪ সালের জুন মাসে একটি পডকাস্টে তিনি খোলসা করেন যে, একাধিক রাজনৈতিক দল তাঁকে দলে টানার চেষ্টা করেছিল। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে লড়ারও অফার পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সব প্রস্তাবই তিনি ফিরিয়ে দেন।

নানা পাটেকরকে রাজনীতিতে আসার অফার কে দিয়েছিলেন?

কোনও রাজনৈতিক দল কি তাঁকে দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল? এই প্রশ্নের জবাবে নানা পাটেকর যা বলেছিলেন, তা শুনে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, একটা নয়, প্রায় সব দলই তাঁকে রাজনীতিতে আসার জন্য সাধাসাধি করেছিল। বড় বড় নেতারা অফার দিলেও নানা পাটেকর কিন্তু রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, রাজনীতিতে এসে কোনও দলে যোগ দেওয়ার পর দলের শীর্ষ নেতা যদি কোনও ভুল করেন, তবে তিনি মুখের ওপর সে কথা বলে দেবেন।

'আমি তো আমার দলের প্রধানকে সোজা বলে দেব, তুমি কি পাগল, এটা কীভাবে সম্ভব?' তখন কি তাঁরা আমার এই সোজা কথা হজম করতে পারবেন? নানা তাঁর নিজস্ব স্টাইলে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেছিলেন, এমনটা করলে দলের প্রধান তাঁকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবেন। আর ঠিক এই কারণেই তাঁর রাজনীতিতে আসার কোনও মানে হয় না। রাজনৈতিক পরিবেশটা একেবারেই আলাদা বলে মনে করতেন তিনি।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও অফার পেয়েছিলেন

ওই পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে নানা পাটেকর জানান, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তাঁর কাছে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু সেই অফারও তিনি ফিরিয়ে দেন।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হেমা মালিনীর জয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন নানা পাটেকর। হেমা মালিনীকে নিজের সময়ের সেরা অভিনেত্রী বলার পাশাপাশি তিনি এও জানান যে, হেমা মালিনী তাঁর ভীষণ পছন্দের একজন মানুষ। নিজের সময়ের আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী ওয়াহিদা রহমানের কথাও উল্লেখ করে নানা জানান, তিনিও তাঁর অন্যতম প্রিয় অভিনেত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী যোগীর কাজের স্টাইলের প্রশংসা করেছিলেন নানা!

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাজের স্টাইলেরও দারুণ প্রশংসা করেছিলেন নানা পাটেকর। স্বাধীনতা দিবসের আগে একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর কাজের ধরন নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন তিনি।

নানা পাটেকর জানিয়েছিলেন, তিনি বেশ কয়েকবার উত্তরপ্রদেশে গিয়েছেন এবং বহু বছর ধরে রাজ্যটিকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর মতে, রাজ্যটিতে এখন অনেক বদল এসেছে। তিনি বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা, পরিকাঠামো এবং সরকারের কাজের ধরনে আসা পরিবর্তনের প্রশংসা করেন। সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও নানার নজর কেড়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ, নানা ভাষা, বৈচিত্র্যময় অঞ্চল এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় জমায়েত সামলে এত বড় একটা রাজ্য চালানো মোটেও মুখের কথা নয়।