El Nino: শীত পড়বে না, উল্টে বাড়বে গরম! এই সময়ে ভারতে প্রাণ যেতে পারে ১৫৮০০ জনের
Super El-Nino: সুপার এল নিনোর জেরে সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে ভারতে প্রায় ১৫,৮০০ বাড়তি মৃত্যুর আশঙ্কা। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্টে উঠে এল ভয়ঙ্কর পূর্বাভাস, জানুন বিস্তারিত।

সুপার এল নিনোর ভয়ঙ্কর পূর্বাভাস
প্রশান্ত মহাসাহরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এই এল নিলোর প্রভাবেই আগামী কয়েক মাস ধরে বিশ্বের আবহাওয়ায় বড় রকম পরিবর্তন হতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ কোথায় গরম, কোথাও আবার অতিরিক্ত ঠান্ডা পড়বে। যার প্রভাব পড়বে ভারতেও।

সুপার এল নিনোর তাণ্ডব
ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের হিসেব অনুযায়ী, চলতি এল নিনো পর্বে জুন থেকে এখনও পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ লক্ষ ৫১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে শুধুমাত্র আবহাওয়ার কারণে। যারমধ্যে সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই সবথেকে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেই সংখ্যাটাও রীতমত ভয়ঙ্কর। সেখানে মৃত্যু হয়েছে ২ লক্ষ ৩৯ হাজার মানুষের।
সুপার এল নিনোর প্রভাব
সুপার এল নিনোর ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়েছে ভারতেও। শক্তিশালী সুপার এল নিলোর কারণে ভারতে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবল গরমের কারণে বাড়তি ১৫ হাজার ৮০০ জন মানুষ মারা যেতে পারে। তেমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্টে। রিপোর্টে বলা হয়েছে ভারতেও প্রবল গরম পড়বে সুপার এল নিনোর প্রভাবে।
ভারতের স্থান তৃতীয়
রিপোর্টে বলা হয়েছে সুপার এল নিনোর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির মধ্যে ভারতের স্থান চতুর্থে। নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সুদানের পরেই ভারত ক্ষতিগ্রস্ত হবে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায়। রিপোর্টে বলা হয়েছে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই অঞ্চলেই রয়েছে নাইজেরিয়া, সুদান আর চাদ এলাকা। সেখানে মৃত্যের সংখ্যা ৬৬.৮০০।
শীতেও গরম
ভারতে সাধারণত ঠান্ডার সময় গরম জনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা কম হবে। কিন্তু গবেষকদের দাবি এবার উত্তর ভারতের তুলনায় দক্ষিণ ভারতে শীতেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে। যার জেরে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়তে পারে বলে রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ঝুঁকির মাস
রিপের্টে বলা হয়েছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর - এই সময়টাই সবথেকে ভয়ঙ্কর। এই সময়েই ভারতে ৭৪০০ মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আর সেই কারণে স্থানীয়দের প্রবল সতর্কতা অবলম্বন করেও বলা হয়েছে।
খাদ্যের আকাল
এল নিনোর প্রভাবে বর্ষার স্বাভাবিক হবে না। বৃষ্টি কম হওয়ার আশঙ্কাই বেশি করা হয়েছে। আর সেই কারণেই ফলস উৎপাদন বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাতেই ভারত-সহ গোটা বিশ্বজুড়ে খাদ্যের সংকট দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে রিপোর্টে।
৪৪ শতাংশ বেশি চরম গরমের দিন
পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্থলভাগের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকতে পারে। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ বেশি অতি গরমের দিন দেখা যেতে পারে এই সময়ে।
সবথেকে বেশি ঝুঁকিতে কারা?
বিশেষজ্ঞদের মতে সবচেয়ে বিপদে বয়স্ক মানুষ, শিশু, দীর্ঘক্ষণ বাইরে কাজ করা শ্রমিক, কৃষক, নির্মাণকর্মী এবং যাঁদের আগে থেকেই কোনও রোগ (কোমর্বিডিটি) রয়েছে, তাঁরা। শহরে কংক্রিটের জঙ্গল আর ‘আরবান হিট আইল্যান্ড এফেক্ট’ গরম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সতর্ক হওয়ার পরামর্শ
গবেষকদের মতে, এই মৃত্যুর পূর্বাভাস মাসখানেক আগে থেকেই পাওয়া যাচ্ছে বলে সরকার ও প্রশাসনের হাতে সময় রয়েছে ব্যবস্থা নেওয়ার — হিট ওয়ার্নিং সিস্টেম, কুলিং সেন্টার, জল ও ছায়ার ব্যবস্থা এবং শ্রমিকদের সুরক্ষার মতো পদক্ষেপ নিলে বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।

