জামিনের আর্জি খারিজ করে আদালত স্পষ্ট বলেছে যে, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং এনভি আঞ্জারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই মামলায় অভিযুক্ত আরও পাঁচজনকে জামিন দিয়েছে।

দিল্লি হিংসা মামলায় জামিনের আর্জি খারিজ উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের। সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের জামিনের আর্জি খারিজ করেছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে দুজনের জামিনের আর্জির শুনানি ছিল। জামিনের আর্জি খারিজ করে আদালত স্পষ্ট বলেছে যে, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আদালত বলেছে, সাক্ষীদের জেরা শেষ হলে বা এখন থেকে এক বছরের মধ্যে তাঁরা আবারও নিম্ন আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দিয়েছে যে, এই আদেশের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে মামলাটি বিবেচনা করতে হবে। তবে বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং এনভি আঞ্জারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই মামলায় অভিযুক্ত আরও পাঁচজনকে জামিন দিয়েছে। তাঁরা হলেন গুলফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, শিফা উর রহমান, মহম্মদ সেলিম খান এবং শাদাব আহমেদ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দিল্লি হিংসা 

২০২০ সালের দিল্লি হিংসা মামলায় উমর এবং শারজিলকে অন্যতম মূল ষড়যন্ত্রকারী বলে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে (ইউএপিএ) তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রায় ছ’বছর ধরে তাঁরা জেল খাটছেন। এর আগে দিল্লি হিংসা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্তদের জামিন দিতে অস্বীকার করে দিল্লি হাইকোর্ট। ৯ সেপ্টেম্বরের রায়ের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেন অভিযুক্তরা। প্রত্যেকেই পৃথক আবেদন করেন। ১০ ডিসেম্বর শীর্ষ আদালত রায়দান সংরক্ষিত করে। দিল্লি পুলিশের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে অভিযুক্তদের পক্ষে কপিল সিব্বল, অভিষেক মনু সিংভি, সিদ্ধার্থ দাভে, সলমন খুরশিদ এবং সিদ্ধার্থ লুথরার মতো সিনিয়র আইনজীবীরা প্রতিনিধিত্ব করেন।

জামিনের বিরোধিতা করে দিল্লি পুলিশ যুক্তি দেয় যে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সংঘটিত হিংসা কোনও স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা ছিল না, বরং এটি ভারতের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে একটি পূর্বপরিকল্পিত ও সুচিন্তিত ষড়যন্ত্রের ফল। দিল্লি পুলিশের আইনজীবীরা দাবি করেন যে সকল অভিযুক্ত একটি সাধারণ পরিকল্পনার অংশ ছিলেন এবং তাই তাঁরা একে অপরের কাজের জন্য দায়ী।