ফের ভারতের এক শক্তিকেন্দ্র হ্যাক করার চেষ্টা করল একটি চিনা সংস্থা। বুধবার, টিএস ট্রান্সকো এবং টিএস জেনকো নামে তেলেঙ্গানার দুই বিদ্য়ুত সরবরাহকারী সংস্থা জানিয়েছে, চিনা
হ্যাকাররা তথ্য চুরি করার উদ্দেশ্যে হানা দিয়েছিল এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত করার চেষ্টাও করে। তবে আগে থেকে ভারতের কম্পিউটার এমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (CERT) ওই দুই সংস্থাকে হ্যাকিং-এর বিষয়ে সতর্ক করায় দুই সংস্থাই বিদ্যুত্ সিস্টেমগুলি হ্যাকিংয়ের প্রচেষ্টা এড়াতে পেরেছে।

সতর্কতার পরই টিএস জেনকো সন্দেহজনক আইপি অ্যাড্রেসগুলি আটকে দেয়। একইসঙ্গে দূরের পাওয়ার স্টেশনগুলি এবং অত্যাধুনিক পাওয়ার গ্রিডগুলি তাদের যে কর্মকর্তারা পরিচালনা করেন তাদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে দেয়। তেলেঙ্গানা ট্রান্সকো এবং জেনকোর চেয়ারম্যান ও এমডি ডি প্রভাকর রাও বলেছেন, চিনা হ্যাকার গোষ্ঠীর কমান্ড এবং কন্ট্রোল সার্ভারগুলি তেলেঙ্গানা স্টেট লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার-এর সিস্টেমগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সুবিধাদিগুলিকে সমস্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ায়, তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, এসডিএলসি পরিচালিত চল্লিশটি সাব-স্টেশনের উপর চিনা হ্যাকারদের নজর ছিল। তবে কম্পিউটার এমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের সময়োপযোগী সতর্কতার জন্যই কোনও সিস্টেমেই চিনা ম্যালওয়্যার প্রবেশ করতে পারেনি।

প্রসঙ্গত, মাত্র দিন কয়েক আগেই একটি মার্কিন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২০ সালে মুম্বাইয়ে যে ব্ল্যাক আউট হয়েছিল, অর্থাৎ বিরা অংশে বিদ্যুৎ ছিল না, তার পিছনে ছিল চিনা সাইবার-হামলা। এক নতুন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই চিনা সরকারের মজতপুষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠীগুলি অন্তত ১২টি ভারতের সরকারি কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। এই কম্পিউটার নেটওয়ার্কগুলি মূলতঃ, বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ পরিচালনা করে থাকে। কাজেই এই নেটওয়ার্কে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করলে ব্যাপক আকারের বিদ্যুত বিভ্রাট ঘটতে পারে। তাই, তেলেঙ্গানার সইবার-হামলার প্রচেষ্টা অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।