২০১৮ সালের নির্বাচনে মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের জয়ের পর সভাই নিশ্চিত ছিলেন যে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। কিন্তু ৭৩ বছরের কমলনাথের কাছে দলীয় লড়াইয়ে পরাজিত হন তিনি। একই ঘটনা ঘটেছিল তাঁর বাবার মাধবরাও সিন্ধিয়ার ক্ষেত্রেও। কারণ তাঁকে ১৯৮৯ সালে অর্জুন সিং-এর তীব্র বিরোধিতার কারণে মুখ্যমন্ত্রীর পদ হাতছাড়া করতে হয়েছিল। তবে
বাবা মাধররাও সিন্ধিয়ার পথে যে হাঁটবেন না জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া তা বেশ কয়েক দিন থেকেই স্পষ্ট ছিল। কারণ বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিন কংগ্রেস ছাড়তে চলেছেন মধ্যপ্রদেশের রাহুল ঘনিষ্ঠ যুবনেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তবে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া কী হাঁটবেন তাঁর ঠাকুমা বিজয়া রাজে সিন্ধিয়ার দেখানো পথে। এখনও তা স্পষ্ট করেননি জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। দশই মার্চ মাধব রাও সিন্ধিয়ার জন্মদিন। আর সেই দিনই তিনি কংগ্রেস ছেড়ে কী তাঁর প্রতি বঞ্চনার জবাব দিলেন ? সেই প্রশ্নটাই ঘুরে ফিরে আসছে রাজনৈতিক মহলে। 

আরও পড়ুনঃ প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে জ্যোতিরাদিত্য, সঙ্গে অমিত শাহ, সিন্ধিয়ার দলবদলের জল্পনা তুঙ্গে

মায়ের বিরুদ্ধ পথে হেঁটেই কংগ্রেসের সদস্যপদ গ্রহণ করেছিলেন মাধব রাও। কারণ  একটা সময় ভারতীয় জনসংঘের টিকিটে মধ্যপ্রদেশের গুনা আসন থেকে জিতেই ভারতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন তিনি। জরুরি অবস্থায় সময় তিনি দেশ ছাড়েন। তারপরই জনসংঘের সদস্যপদ ছেড়ে তিনি ফিরে আসেন ভারতে। মাধবরাও সিন্ধিয়া কংগ্রেসের টিকিটে ৯ বার লোকসভায় গিয়েছিলেন। রাজীব গান্ধি এবং পিভি নরসীমা রাওয়ের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৯৯ সালে সনিয়া গান্ধি কংগ্রেসর দায়িত্ব গ্রহণ করলে মাধব রাওয়ের গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছিল দলে। কারণ হিন্দিতে অনভ্যস্ত সনিয়া, মাধব রাওয়ের হাতেই তুলে দিয়েছিলেন সংসদীয় কাজকর্মের ভার। ২০০১ সালে এইটি বিমান দুর্ঘটনায় মাত্র ৫৬ বছর বয়সেয়ই মৃত্যু হয় তাঁর। মাধবরাওয়ের মৃত্যুর পর থেকেই মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের গুরুদায়িত্ব এসে পড়ে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার ওপর। প্রথম থেকেই রাহুল গান্ধির যুব ব্রিগেডের সামনের সারির নেতা ছিলেন তিনি। 

আরও পড়ুনঃ পদত্যাগের কয়েক মিনিট পরই বহিষ্কার, 'জোর কা ঝটকা' কেমনভাবে লাগল কংগ্রেস-এ

একদমই অন্যভূমিকা ছিল জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার ঠাকুমা বিজয়া রাজে সিন্ধিয়ার। কংগ্রেসের হাত ধরেই ভারতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন তিনি। পরপর দুবার কংগ্রেসের টিকিটে সংসদেও গিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরই নিজে একটি দল তৈরি করেন। যার নাম স্বতন্ত্রপার্টি। নুতন দল গঠন করে কংগ্রেস প্রার্থীকে হারিয়ে তৃতীয় বাবের জন্য সাংসদ হয়েছিলেন বিয়জারাজে সিন্ধিয়া। তারপরই ভারতীয় জনসংঘের সদস্যপদ গ্রহণ করেন। কেন্দ্র ছেড়ে রাজ্যরাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন। একটা সময় মধ্যপ্রদেশ রাজনীতির সর্বময় কর্তৃী ছিলেন বিজয়ারাজে। জরুরি অবস্থার সময় ইন্দিরা গান্ধি তাঁকে জেলেও পুরেছিলেন।  তবে তাঁকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছিল বিজেপি। রামজন্মভূমি কর্মসূচি প্রচারের মুখ্য ভূমিকায় দেখাগিয়েছিল মধ্যপ্রদেশের রাজমাতাকে। 

 সম্পত্তি নিয়ে মা ও ছেলের বিবাদও নজর কেড়েছিল গোটা দেশের। যা গেছে আদালত পর্যন্ত। গোয়ালিয়র রাজপরিবারের আইনে লড়াইয়ে উড়েছে কোটি কোটি টাকা। কিন্তু এখনও অনেক মামলাই নাকি শেষ হয়নি। 

রাজস্থান মধ্যপ্রদেশের বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে গোটা দেশ দেখেছিল পিসি ভাইপোর লড়াই। কারণ রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরারাজে সিন্ধিয়া জ্যোতিরাদিত্যর পিসি। অর্থাৎ মাধবরাওয়ের বোন। তবে বসুন্ধরা কোনও দিনই কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন না। তাঁর রাজনীতির হাতেখড়ি হয় বিজেপিতে। কিন্তু ভোট প্রচারে যুযুধমান দুই দলের সদস্য পিসি ভাইপে একে অপরকে নিশানা করতে ছাড়েনি। তাই জ্যোতিরাদিত্য যদি বিজেপিতে যোগদান করেন তাহলে কি আবার পিসি-ভাইপোর মিল দেখবে ভারতীয় রাজনীতি। সেই প্রশ্নটাই উঠছে ঘুরেফিরে।