তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) সংকট আরও গভীর হচ্ছে। একের পর এক নেতা দল ছাড়ছেন। এর মধ্যেই দলের প্রায় ২০ জন লোকসভা সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তারা আলাদা বসার জায়গার দাবি জানিয়েছেন এবং বিজেপির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন বলে খবর। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করলেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে যখন টালমাটাল পরিস্থিতি, ঠিক তখনই দলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার নয়াদিল্লির ১০ জনপথে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করলেন। দলে একের পর এক নেতার পদত্যাগ এবং রাজনৈতিক সংকটের আবহে এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে মঙ্গলবার, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের সংসদীয় দলের প্রধান সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তাঁর বাসভবনে দেখা করেছিলেন।

পদত্যাগের হিড়িক, বেসামাল তৃণমূল
এদিন সকালেই তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সুস্মিতা দেব দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। তিনি বলেন, তিনি এমন কোনও পরিস্থিতিতে থাকতে চান না যেখানে তাঁকে "দুই নৌকায় পা দিয়ে" চলতে হয়। তাঁর কথায়, "এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে একটা লম্বা গল্প আছে। আমার মনে হয় না, রাজনীতির সব কথা প্রকাশ্যে আনা উচিত। আমি দুই নৌকায় পা দিয়ে চলার মতো অবস্থায় থাকতে চাইনি। এটা রাজনীতি করার সঠিক পথ নয়।"
এর আগে ৮ জুন, রাজ্যসভার আরেক সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় সংসদের উচ্চকক্ষ এবং তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলের বড় হারের জন্য তৃণমূলকে দায়ী করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলের "১৫ বছরের নৈরাজ্যমূলক শাসনের" ফলই এই ভরাডুবি, এমনটাই দাবি করেন তিনি।
২০ সাংসদের বিদ্রোহ, আলাদা বসার আর্জি
তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনার মধ্যেই এই পদত্যাগের ধারা অব্যাহত রয়েছে। দলের প্রায় ২০ জন লোকসভা সাংসদ বিদ্রোহ করেছেন বলে খবর। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার সংবাদসংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন যে, ২০ জন সাংসদের একটি গোষ্ঠী লোকসভার স্পিকারের কাছে আলাদা বসার ব্যবস্থার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছে। তিনি বলেন, "আমরা ২০ জন সাংসদ স্পিকারের কাছে আলাদা আসনের জন্য অনুরোধ করেছি। আমরা পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করব।"
বিদ্রোহী সাংসদরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূপেন্দ্র যাদব এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করায়, এই গোষ্ঠী এনডিএ-তে যোগ দিতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
সংবিধানের দশম তফসিল, যা দলত্যাগ-বিরোধী আইন নামে পরিচিত, সেই অনুযায়ী সাংসদ পদ খারিজ হওয়া এড়াতে হলে বিদ্রোহী সাংসদদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অন্য দলে মিশে যেতে হবে।


