কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। সূত্রের খবর, কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সনিয়া গান্ধী এই প্রস্তাব দিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার ঝড়। তৃণমূল কংগ্রেসকে কংগ্রেসে মিশিয়ে দিয়ে ২৮ বছর পর আবার কি হাত শিবিরে ফিরতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মহলে এমনই নানা গুঞ্জন ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। সূত্রের খবর, কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সনিয়া গান্ধী এই প্রস্তাব দিয়েছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব

রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, সম্প্রতি কংগ্রেসের শীর্ষ নেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকের পরই নাকি তাঁকে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও এই দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ঘোষণা বা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলেনি। ফলে বিষয়টি আপাতত রাজনৈতিক মহলের জল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ২৮ বছর পর ঘরে ফিরবেন মমতা? সত্যি উঠে যাবে মমতার হাতে গড়া তৃণমূল কংগ্রেস?

২৮ বছর পর ঘরে ফেরা?

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারপর দীর্ঘ ২৮ বছরে তৃণমূল শুধু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দলই হয়নি, জাতীয় রাজনীতিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাই তৃণমূলকে কংগ্রেসে মিশিয়ে দেওয়ার মতো কোনও সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও।

কংগ্রেসে তৃণমূলের সুপ্রিমো যোগ দেওয়ার নেপথ্যে যে তত্ত্ব উঠে আসছে, তা হল কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন লোকসভার সাংসদ আলাদা ব্লক তৈরি করে নিজেদের আসল তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করতে পারে। রাজ্যসভার সাংসদদের একাংশও দল ছাড়ছে, পদ ছাড়ছে। বিধানসভায় ঋতব্রতের হাত ধরে ৬৪ জন বিধায়ক আলাদা তৃণমূল গড়ার চেষ্টা করছে। এরা যদি নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে, তবে দলের প্রতীকও পেয়ে যেতে পারে। দলের টাকা থেকে শুরু করে যাবতীয় অধিকার তাদের হাতে চলে যাবে। সেটা রুখতেই কি তৃণমূলের এই স্ট্র্যাটেজি?

তবে সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের সহ সভাপতি করার প্রস্তাব বা তৃণমূল কংগ্রেসকে কংগ্রেসে মিশিয়ে দেওয়ার দাবির কোনও আনুষ্ঠানিক প্রমাণ বা সরকারি ঘোষণা এখনও সামনে আসেনি। ফলে এই মুহূর্তে বিষয়টিকে রাজনৈতিক জল্পনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।