নিজস্ব প্রতিনিধি: জেএএনইউকাণ্ডে ইতিমধ্যেই থেমে গিয়েছে দিল্লি-অমৃতসর রুটে ট্রেনের চাকা। এবার পুরোপুরি বিপর্যস্ত হতে পারে দিল্লি ও তার আশপাশের রেল পরিষেবা। অন্তত আশঙ্কা এমনটাই।

রবিবার রাতে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে ঢুকে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায় বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের ওপর। হাতে লোহাল রড আর লাঠি নিয়ে কাপড়ে মুখ ঢেকে আসা দুষ্কৃতীরা এবিভিপি-র সমর্থক বলে অভিযোগ ওঠে। পাল্টা এবিভিপি অভিযোগ করে, ঘটনায় আদৌ তাঁরা জড়িত ছিলেন না। সমস্ত ঘটনার দায় তাঁরা বাম সমর্থকদের ওপরে চাপান। এদিকে বাম-ডান তরজার মাঝেই দেশজুড়ে প্রতিবাদে নামেন পড়ুয়ারা। রবিবার রাতেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যলায়ের ছাত্রছাত্রীরা মশাল নিয়ে পথ নামেন। সোমবার বেলা বাড়তে-না-বাড়তেই রাজ্যের অন্যত্রও শুরু হয়ে যায় পড়ুয়াদের বিক্ষোভ। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি ও তার লাগোয়া অঞ্চলের অবস্থা আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। রেলসূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল সাড়ে ন-টা নাগাদ দিল্লি-অমৃতসর রুটের ট্রেন বন্ধ হয়ে যায় বিক্ষোভের জেরে। বেলা বেলা বাড়ার সঙ্গেসঙ্গে আন্দোলনের তাপ আরও বাড়তে থাকে। যার জেরে আশঙ্কা করা হচ্ছে, দিল্লি ও তার সংলগ্ন এলাকায় পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে ট্রেন চলাচল। যার ফলে ভোগান্তির কবলে পড়তে হতে পারে দূরপাল্লার কয়েকহাজার  যাত্রীদের।

শুধু রেল চলাচলই নয়। ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত হয়েছে সড়কপথও। সকাল থেকেই দিল্লির বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষোভের জেরে যানজটের খবর আসতে থাকে।  পৌনে দশটার সময়ে, দিল্লি পুলিশ তার সরকারি টুইট হ্যান্ডেলে যানজট এড়াতে বিভিন্ন বিকল্প পথের কথা জানায়।

এদিকে এই পরিস্থিতিতে, কলকাতাত-সহ রাজ্যের নানা জায়গায় পথ অবরোধের সম্ভাবনা রয়েছে সোমবার। শুধু পড়য়ারাই নন, নাগরিক সমাজের বিভিন্ন প্রতিনিধিরাও এদিন বিক্ষোভে মিছিলে শামিল হতে পারেন বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে কনকনে দিল্লির উত্তপ্ত আঁচ বাংলাতেও পড়বে বলে আশঙ্কা।