তীব্র বাদানুবাদ থেকে হাতাহাতি। শুক্রবার কংগ্রেস-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তাল হল লোকসভা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনের উপর কংগ্রেসের এক সাংসদ হামলা চালিয়েছেন, এমন গুরুতর অভিযোগ উঠল। কংগ্রেসের পাল্টা অভিযোগ, ওই সাংসদ-কেই আক্রমণ করেছেন বিজেপি সাংসদরা। এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে সারা দিনের জন্য স্থগিত হয়ে গেল সভার কাজ।

এদিন প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর 'যুবরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লাঠিপেটা করবে' মন্তব্যের নিন্দা করছিলেন। হর্ষ বর্ধন বলেন প্রথমে তিনি প্রথমে গান্ধীর বিবৃতিটি পড়বেন। এতেই তোলপাড় শুরু হয়ে যায় লোকসভায়। তামিলনাড়ুর কংগ্রেস সাংসদ মানিক্কম ঠাকুর-কে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে হর্ষ বর্ধনের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে। এরপরই সভা প্রথমে দুপুর ১ টা পর্যন্ত, তারপর দুপুর ২ টা পর্যন্ত, শেষে সারা দিনের জন্যই স্থগিত করে দেওয়া হয়।

পরে, হর্ষ বর্ধন অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে কুৎসিত ভাষা ব্যবহারের জন্য রাহুল গান্ধীর নিন্দা করার সময় লোকসভায় তাঁর উপর হামলা করে কংগ্রেস সাংসদরা। তারা তাঁর হাতে থাকা কাগজপত্র-ও ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বলেন, 'এটা একেবারেই অবাঞ্ছনীয় ঘটনা। যদি সভায় কোনও ভুল কথা বলা হয়, তবে স্পিকার তা বলবেন। কিন্তু, একজন মন্ত্রীর উপর হামলার চেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়'।

কংগ্রেস কিন্তু হামলার অভিযোগ মানতে নারাজ। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও অন্যান্য ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে মানিক্কম ঠাকুর কাউকে আক্রমণ করেননি, বরং তাঁকেই আক্রমণ করা হয়েছিল। যাকে ঘিরে এত কাণ্ড, সেই কংগ্রেস সাংসদ বি মানিক্কম ঠাকুর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে এবং তাঁর উপর হামলা করা সাসংদদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পরে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে বিজেপি সাংসদ হর্ষ বর্ধন যে মন্তব্য করেছেন, তাই নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং অধীররঞ্জন চৌধুরী এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশির সঙ্গে আলাদা আলাদা করে বৈঠক করেন।