মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ভারত একটি বাণিজ্য চুক্তির প্রায় দোরগোড়ায় রয়েছে। নয়াদিল্লিতে তিনি বলেন, দু'দেশের মধ্যে আলোচনায় 'দারুণ উন্নতি' হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই একটি দীর্ঘস্থায়ী ও লাভজনক চুক্তি হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। 

মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও রবিবার বলেছেন, আমেরিকা ও ভারত একটি বাণিজ্য চুক্তির "প্রায় দোরগোড়ায়" পৌঁছে গেছে। দু'দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর জন্য যে আলোচনা চলছে, তাতে "দারুণ উন্নতি" হয়েছে বলেও তিনি জানান।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

যৌথ সাংবাদিক বৈঠক

নয়াদিল্লিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে এক যৌথ প্রেস কনফারেন্সে রুবিও বলেন, ভারত-মার্কিন সম্পর্ক ভাঙছে, এই ধারণা ঠিক নয়। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই বাণিজ্য উদ্যোগ আসলে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলার একটি অংশ। রুবিও বলেন, "ভারত-মার্কিন সম্পর্কের গতি একটুও কমেনি।"

তিনি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন শুধু ভারতকে নিশানা করে এই পদক্ষেপ নেয়নি, বরং বিশ্বজুড়ে আমেরিকার বাণিজ্যিক চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করার একটি বৃহত্তর চেষ্টার অংশ এটি।

রুবিও বলেন, "প্রেসিডেন্ট এমনটা বলেননি যে 'চলো, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে একটা সমস্যা তৈরি করি'। বরং তিনি বলেছিলেন, 'আমেরিকার অর্থনীতির জন্য বর্তমান বাণিজ্য পরিস্থিতি আর ঠিকঠাক কাজ করছে না। একটা বড়সড় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে, যেটা ঠিক করা দরকার'।" তিনি আরও বলেন, "আমি বিশ্বের এমন কোনও দেশে যেতে পারব না, যেখানে বাণিজ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না, কারণ আমরা এটা একটা বিশ্বজনীন দৃষ্টিকোণ থেকে করেছি।"

ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরে রুবিও ভারতকে একটি "বিশাল অর্থনীতি" এবং আমেরিকার অন্যতম প্রধান বাণিজ্য সহযোগী হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, "পার্থক্যটা হলো, ভারত এক বিশাল অর্থনীতি। এটি এমন এক বড় অর্থনীতি, যার সঙ্গে আপনারা আমাদের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। আমরা ভারতের সঙ্গে প্রচুর বাণিজ্য করি।"রুবিও বলেন, আমেরিকা বিশ্বজুড়ে এমন বাণিজ্য ব্যবস্থা তৈরি করবে যা শুধু তাদের দেশের জন্য নয়, তাদের বাণিজ্য সহযোগীদের জন্যও ভালো হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আমেরিকার সঙ্গে ভারতের এমন একটি বাণিজ্য চুক্তি হবে যা দু'দেশের জন্যই লাভজনক এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে। তিনি বলেন, "আমরা আশা করছি, সেই দেশগুলোর মধ্যে ভারতও থাকবে। সত্যি বলতে, আমরা প্রায় একটা চুক্তি করেই ফেলেছি। আশা করি, আমাদের বাণিজ্য প্রতিনিধি খুব তাড়াতাড়ি এখানে আসতে পারবেন।"

রুবিও আরও বলেন, "আমার মনে হয়, গত সপ্তাহে বা তার আগের সপ্তাহে ভারতীয় প্রতিনিধিদল আমেরিকায় গিয়েছিল। আমরা আলোচনায় দারুণ উন্নতি করেছি। আমার বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত ভারত ও আমেরিকার মধ্যে এমন একটি বাণিজ্য চুক্তি হবে যা দীর্ঘস্থায়ী এবং দু'পক্ষের জন্যই লাভজনক ও টেকসই হবে।"

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি

উল্লেখ্য, এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ভারত ঘোষণা করেছিল যে তারা পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্যের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির (Interim Agreement) কাঠামো তৈরি করেছে। এই কাঠামোটি ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA) আলোচনার প্রতি দু'দেশের অঙ্গীকারকে আরও মজবুত করে। এই BTA আলোচনার সূচনা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। দু'দেশ জানিয়েছিল, এই চুক্তিতে আরও বেশি বাজার পাওয়ার সুযোগ এবং স্থিতিশীল সাপ্লাই চেইন তৈরির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, আমেরিকা ও ভারতের মধ্যে এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি দু'দেশের অংশীদারিত্বে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হবে, যা দুই দেশের স্বার্থ বজায় রাখবে।