হিমবাহ বিস্ফোরণে তুষার ধসে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলা। সকাল থেকেই পরিস্থিতি খোঁজ রাখছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ত্রাণ সরবরাহ নিয়েও ওয়াকিবহাল ছিলেন তিনি। দেবভূমিতে তুষারধসের নিখোঁজ হওয়া ১০ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে শতাধিক মানুষ। উদ্ধারকারী দলের আশঙ্কা নিখোঁজরা কেউই আর বেঁচে নেই। সেক্ষেত্রে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে খবর ঋষিগঙ্গার ছোট্ট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি জলোচ্ছ্বাসের কারণে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ঋষিগঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি তপোবন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের টানেলে বেশ কয়েক জন শ্রমিক আটকে ছিলেন। এখনও পর্যন্ত ১৬ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আবহাওয়াবিদরা অভিযোগ করেছেন একের পর এক পাহাড় আর গাছ কেটে রাস্তা তৈরি হচ্ছে, তৈরি করা হচ্ছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। যার কারণের প্রকৃতির এই ক্ষয়ক্ষতি। তবে এই বিষয়ে সরকার এখনও পর্যন্ত কোনও বিবৃতি দেয়নি। উদ্ধারকাজে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের পাশাপাশি রাজ্য প্রশাসনও উদ্ধাকাজে জোর দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র হিং রাওয়ত মৃতদের পরিবার পিছু ৪ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপুরণ দেওয়ার কছা ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণের কাজেও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যথেষ্ট তৎপর। উদ্ধারকাজে নামান হয়েছে সেনা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী খোঁজ নিয়েছেন। এদিন চার বার প্রধানমন্ত্রী টেলিফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

তবে সময় যত যাচ্ছে সামনে আসছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভয়ঙ্কর ছবি। বিআরও জানিয়েছেন, ধৌলিগঙ্গায় জলোচ্ছ্বাসের কারণে ঋষিকেশ থেকে যোশীমঠ পর্যন্ত মানা সড়কটি বিপর্যস্ত হয়েছিলেন। এদিন বিকালে  তা যান চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। যান চলাচলের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে।অন্যদিকে  ডিফেন্স ডেভলপমেন্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশন জানিয়েছে সদ্যো নির্মিত প্রতিরক্ষা সংস্থা জিও ইনফরম্যাটিকস গবেষণা সংস্থাটির তুষার ও তুষারপাত বিশেষজ্ঞের একটি দল  আগামিকাল উত্তরাখণ্ডে যাচ্ছে। গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে তারা। আশপাশের হিমবাহগুলির পরিস্থিতিও মূল্যায়ন করবে তারা।