কেন্দ্রীয় সরকার 'বন্দে মাতরম' গানটিকে জাতীয় সঙ্গীতের সমান আইনি সুরক্ষা দিয়েছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু 'প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (সংশোধনী) বিল-২০২৬'-এ সই করার পরেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে এই গানকে অপমান করলে জেল পর্যন্ত হতে পারে।

বন্দে মাতরমের জন্য আইনি সুরক্ষা

এখন থেকে 'জন গণ মন'-এর মতোই আইনি সুরক্ষা পাবে 'বন্দে মাতরম' গানটিও। এতদিন পর্যন্ত শুধু জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া বা অপমান করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ ছিল। কিন্তু বন্দে মাতরমের ক্ষেত্রে এমন কোনও নির্দিষ্ট আইন ছিল না। এই অভাব দূর করতেই কেন্দ্র সরকার ১৯৭ সালের 'প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার' আইন সংশোধন করে বন্দে মাতরমকেও এর আওতায় এনেছে।

কী শাস্তি হতে পারে?

রাষ্ট্রপতি এই সংশোধনীতে সম্মতি দেওয়ায় এটি এখন полноценো আইন। এর ফলে, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বন্দে মাতরম গাওয়ার সময় বাধা দেয়, অনুষ্ঠানে গণ্ডগোল করে বা গানটিকে অপমান করে, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল, জরিমানা অথবা দুটোই হতে পারে। বারবার আইন ভাঙলে আরও কড়া শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কেন এই সমান মর্যাদা?

১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি, ভারতের সংবিধান সভার সভাপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ একটি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'বন্দে মাতরম' গানটির ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তাই জাতীয় সঙ্গীত 'জন গণ মন'-এর মতোই 'বন্দে মাতরম'-কেও সমান সম্মান দেওয়া উচিত। সেই ঐতিহাসিক ঘোষণাকেই এবার আইনিভাবে আরও মজবুত করল কেন্দ্রীয় সরকার।

কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সম্প্রতি বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে নতুন নির্দেশিকাও জারি করেছে। এই বছর স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দিল্লির লালকেল্লায় প্রথমবার বন্দে মাতরম গাওয়া হবে। সরকারি অনুষ্ঠানে যদি দুটি গানই গাওয়ার থাকে, তাহলে প্রথমে বন্দে মাতরম এবং তারপর জাতীয় সঙ্গীত গাইতে হবে। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, বন্দে মাতরম গাওয়ার সময়ও উপস্থিত সবাইকে অ্যাটেনশনে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। এছাড়া, দেশের সব স্কুলে প্রতিদিন ক্লাস শুরুর আগে集体ভাবে বন্দে মাতরম গাওয়ার জন্য ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্র পরামর্শ দিয়েছে।