মেট্রোদাদুকে মনে আছে ? কলকাতা মেট্রোয় আলিঙ্গনরত এক যুবক যুবতীকে শ্লীল-অশ্লীলের পাঠ পড়িয়ে গোটা রাজ্যে পালটা ব্যারাকিং-এর মুখে পড়েছিলেন ষাটোর্ধ্ব এক ভদ্রলোক। সেই ঘটনারই নবতম সংস্করণ রেস্তোরাঁ আন্টি। তার নীতিপুলিশির দয়ায় ফেসবুকে এখন জনপ্লাবন। ভোটের জমক ফিকে হয়ে গিয়েছে এই ঘটনার অভিঘাতে। গোটা দেশ বলছে নীতিপুলিশির আরেকনাম সোনা আন্টি। 

ঘটনা গুরুগ্রামের। বন্ধুদের সঙ্গে স্বনির্বাচিত পোশাক পরে রেস্তোরাঁয় খেতে এসেছিলেন এক তরুণী। তাঁর পোশাকের দৈর্ঘ্য এই মধ্যবয়স্কার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।  তিনি প্রকাশ্যেই বলেন এই পোশাকের মাপের কারণেই ধর্ষণ হয়। এই মন্তব্যকে খুব সহজ ভাবে নেয়নি ওই তরুণী আর বন্ধুরা। রেস্তোরাঁ থেকে তিনি বেরিয়ে এলে, ক্যামেরা নিয়ে তাঁর পিছনে  ধাওয়া করে এই তরুণীদের দলটি।


ক্যামেরার সামনে গোটা ঘটনার জন্য সোমাদেবীকে ক্ষমা চাইতে বলেন ওই তরুণী ও তাঁর বন্ধুরা। ভীড় জমতে শুরু করে। একে একে মানুষকে পাশে পেতে শুরু করেন এই তরুণী। হকচকিয়ে গেলেও ভাঙতে চাননি ওই মহিলা। উল্টে পুলিশ ডাকার হুমকি দেন। তখন তাঁকে পাল্টা এক হাত নেন সেখানেই উপস্থিত অন্য এক মহিলা। তিনি বলেন, এই নিন্দনীয় মন্তব্যের জন্যে তাঁকে অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে। হেনস্থার শিকার তরুণীদের দলটিও সমস্বরে বলতে থাকে ক্ষমা চাইতে হবে," নইলে জীবন নরক করে দেব।"

ঠিক কী বলেছিলেন এই ভদ্রমহিলা? ওই তরুণীর বয়ান থেকে জানা যাচ্ছে, ওই মহিলা স্বতপ্রণোদিত ভাবেই এসে বলেন, " তোমরা রেকর্ডিং করছো? বন্ধুরা এই মেয়েগুলি ছোট পোশাক পরেছে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে। এরা এমন পোশাক পরে, এমনকী নগ্নও থাকে ধর্ষনের স্বীকার হওয়ার জন্যে। "  সাময়িক ভাবে ঘাবড়ে গেলেও ঘটনার মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নেন ওই তরুণী ও তাঁর বন্ধুরাষ 

দেখা যায় ওই মহিলার সঙ্গ দিতে নারাজ সংলগ্ন শপিং মলের কর্মীরাও। বরং নিজদের পক্ষেই লোক পেয়ে যান এই মেয়েগুলি। ফেসবুকে ভিডিওটি প্রায় ১০ মিনিটের। ফেসবুকে দিতেই ভিডিওটি ছড়াতে শুরু করে জেট গতিতে। শুরু হয় ধিক্কার জানানো। ভোটের বাজারে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলিতে জায়গা পায় ঘটনাটি।

একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে দাঁড়িয়ে আছি আমরা।  বিজ্ঞান প্রযুক্তি পাল্লা দিয়ে উন্নতি করছে রোজ। কিন্তু মানুষের প্রাগৈতিহাসিক মনটা  যার জেরে নির্ভয়ার মত মেয়েদের আজও সুরক্ষা নেই ? দিল্লির ঘটনা প্রমাণ করে দিল, তা এতটুকুও বদলায়নি।