মাটিতে আছড়ে ফেলে প্রহার করছেন স্ত্রীকে। স্ত্রী চিৎকার করে পুলিশ ডাকছেন। এরকমই ভয়াবহ গার্হস্থ্য হিংসার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর ওই ভিডিওতে স্ত্রীকে মাটিতে ফেলে দিয়ে নির্যাতন করতে দেখা যাচ্ছে যে ব্য়ক্তিকে তিনি, মধ্যপ্রদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল বা এডিজি পুরুষোত্তম শর্মা। স্ত্রীকে মারধরের ওই ভিডিও ভাইরাল হতেই সোমবার চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এই আইপিএস অফিসারকে। ২০০৮ সালেই তাঁর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন তাঁর স্ত্রী।

যদিও, নিজেকে নির্দোষ বলেই দাবি করেছেন ওই সদ্য প্রাক্তন পুলিশ কর্তা। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, ৩২ বছর ধরে তাঁরা বিবাহিত জীবনে রয়েছেন। তাঁর স্বভাব যদি সত্যিই আপত্তিজনক হত, তবে তাঁর স্ত্রী আরও আগেই অভিযোগ করতেন। তিনি, প্রকৃতিগতভাবে হিংস্র মানুষও নন এবং অপরাধীও নন, বলে দাবি করেছেন। তাঁর এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়াটা 'দুর্ভাগ্যজনক' বলে বর্ণনা করেছেন অভিযুক্ত পুলিশ কর্তা।

তাঁর দাবি এটি কোনও অপরাধের ঘটনা নয়। এটি আসলে একটি পারিবারিক বিরোধ যকে অপরাধের চেহারা দেওয়া হয়েছে। তাঁকে ফাঁদে ফেলার জন্যই তাঁর স্ত্রী ঘরে ক্যামেরা লাগিয়েছিলেন বলে অভিযোগ পুরুষোত্তম শর্মার। তার আরও দাবি, ২০০৮ সালেই তাঁর বিরুদ্ধে নির্য়াতনের অভিযোগ আনলেও, এখনও তাঁর স্ত্রী তাঁর বাড়িতেই বসবাস করছেন। সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন, এমনকী তাঁর অর্থ খরচ করেই বিদেশ ভ্রমণ অবধি করে চলেছেন।

ভাইরাল ভিডিওটি দেখা বোঝা যাচ্ছে ভিডিওটি গোপন তোলা। আগে থেকে ক্যামের সেট করা হয়েছিল একটি গোপন স্থানে। ভিডিও ফুটেজে অতিরিক্ত ডিজি পূর্বশোত্তম শর্মাকে দেখা যাচ্ছে স্ত্রীকে পিছন থেকে জাপটে ধরে থাকতে। তারপর একসময় স্ত্রীকে প্রায় আছাড় মেরে মাটিতে ফেলে দেন তিনি। তারপর সম্ভবত একের পর এক আঘাত করেন পুলিশ কর্তা। পুরো সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন নীল ও গোলাপি সার্ট পরা দুই ব্যক্তি। তাঁরা সম্ভবত গৃহপরিচারক। তাঁদের কে দেখা গিয়েছে স্বামী-স্ত্রী'র ঝামেলায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে থাকতে।