এদেশে মহিলা মানেই তিনি কষ্টসাফ্য কাজ করতে পারবেন না এমনটাই ধারণা করে নেওয়া হয়। তবে বর্তমান সময়ে সেই চিত্রটার অনেকটাই বদল হয়েছে। আকাশে যুদ্ধ বিমান ওড়াচ্ছেন মহিলারা। যোগ দিচ্ছেন সেনা বাহিনীতে। এমনকি মহাকাশেও পাড়ি দিয়েছেন আধুনিক মহিলারা। জাদরেল মহিলা পুলিশের দেখাও পেয়েছে ভারতীয় সমাজ। এমনকি দমকলের কাজেও ছেলেদের পাশাপাশি এগিয়ে এসেছেন মহিলারা। এবার পুরুষতান্ত্রিক সমাজে  নারী ক্ষমতায়নে ধ্বজা ওড়ালেন ওক মরাঠা মহিলা। মহারাষ্ট্র বিদ্যুৎ দফতরের ওই কর্মী ইলেকট্রিক পোলে তরতরিয়ে উঠে একবারে প্রমাণ করে দিলেন নারী কোনোও অংশে পুরুষের থেকে কম যায় না।

আরও পড়ুন: দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আর মর্যাদার প্রতীক জাতীয় পতাকা, জেনে নিন তিরঙ্গার অজানা কাহিনি

উষা জগদালে কাজ করেন মহারাষ্ট্র বিডে। লকডাউনে গ্রাহকদের পরিষেবা অক্ষুণ্ণ রাখতেই মহারাষ্ট্রের বেদ এলাকার একটি ইলেকট্রিক পোলে তিনি খালি পায়ে তড়তড়িয়ে উঠে যান ইলেকট্রিক পোলে। কেবল স্টান্ট প্রদর্শন করেই তিনি সকলকে অবাক করে দেননি, বরং পোলের মাথায় ইলেকট্রিক পরিষেবায় যে সমস্যা হচ্ছিল সেটিও উষা  খুব তাড়াতাড়ি ঠিক করে দেন। 

আরও পড়ুন: গ্রামের বাড়ি থেকে কাঁঠাল নিয়ে আয়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে ছেলের কাছে আবদার ছিল প্রণবের

যদিও এই পুরো কাজটি তিনি করেছেন কোনো রকম সুরক্ষা ব্যাবস্থার সাহায্য ছাড়াই, যা তার প্রাণ হানির কারন হতে পারত। ইতিমধ্যে মারাঠি কন্যার  ল্যাম্পপোস্টে উঠে যাওয়ার সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।  খোদ অল ইন্ডিয়া রেডিও নিজেদের ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে উষার ইলেকট্রিক পোলে ওঠার  ভিডিওটি শেয়ার করে। ইতিমধ্যেই যা দেখে ফেলেছেন ২ লাখের কাছাকাছি মানুষ।  

 

 

যদিও এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে দ্বিধা বিভক্ত নেট পাড়া। এক দল লোক যেমন এই মহিলার সাহস ও কর্ম দক্ষতাকে কুর্ণিশ জানিয়ে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।  তেমনই অপর দলটি এই কাজের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে এই ভাবে ২৩০ ভোল্টের ইলেকট্রিক নিয়ে কাজ করা বোকামি। পাশাপাশি,  জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মই ছাড়া এভাবে পোলে ওঠাও উচিত হয়নি। গোটা ঘটনা বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঢেউ উঠেছে।

 

 

তবে প্রশংসা ও সমালোচনা সব মিলিয়ে এই মুহুর্তে নেট পাড়ায় জোর চর্চায় উষা জগদালে।  সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর দৌলতে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছেন তিনি।