কেন্দ্রীয় সরকার ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট (FCRA) সংশোধনের জন্য সংসদে একটি নতুন বিল পেশ করছে। এই বিলটি বিদেশি তহবিলের ওপর নির্ভরশীল বেসরকারি সংস্থা এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠোর বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে, কিন্তু হট্টগোলের সম্ভাবনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রথম দুই সপ্তাহে যেখানে নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ছাত্রছাত্রী-সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে সংসদে তীব্র হট্টগোল দেখা গিয়েছিল, সেখানে এখন একটি নতুন আইন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে চলেছে।
কেন্দ্রীয় সরকার ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট (FCRA) সংশোধনের জন্য সংসদে একটি নতুন বিল পেশ করছে। এই বিলটি বিদেশি তহবিলের ওপর নির্ভরশীল বেসরকারি সংস্থা এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠোর বলে মনে করা হচ্ছে। একারণেই বিলটি সংসদে পেশ হওয়ার সাথে সাথেই বিরোধী দলগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করবে এবং হট্টগোল সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদেশি অর্থায়নের ওপর চাপ বাড়তে চলেছে
সরকার বলছে, বিদেশি অনুদানে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে এবং এর আড়ালে অনিয়ম রোধ করতে আইনে কঠোর পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে, সরকার বিদেশি তহবিল গ্রহণকারী সমস্ত এনজিওর ওপর কড়া ও সরাসরি নজর রাখবে।
তবে, বিরোধী দল এবং বেশ কয়েকটি এনজিও যুক্তি দিচ্ছে যে এটি এনজিওগুলোর স্বাধীনভাবে কাজ করার স্বাধীনতা কেড়ে নেবে। তা সত্ত্বেও, সরকার আশাবাদী যে তারা বিধানসভায় বিলটি পাস করাতে সফল হবে।
এই নতুন বিলটি ঠিক কী পরিবর্তন করতে চলেছে?
সহজভাবে বলতে গেলে, আইনটিতে এমন বেশ কিছু বিধান রয়েছে যা বিদেশি অনুদান গ্রহণকারীদের স্বেচ্ছাচারিতাকে সম্পূর্ণরূপে দমন করবে:
সম্পত্তির নিলাম ও বাজেয়াপ্তকরণ - সরকারের এই ধরনের সম্পত্তি কোনো সরকারি বিভাগের কাছে হস্তান্তর করার অথবা নিলাম করে প্রাপ্ত অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা করার অধিকার থাকবে।
সময়সীমা ও বিধিনিষেধ - বিদেশি তহবিল ধারণ ও ব্যয়ের জন্য একটি কঠোর সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। এছাড়াও, কোনো সংস্থা তদন্তাধীন বা স্থগিত থাকাকালীন তার কোনো সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবে না।
কর্মকর্তাদের সরাসরি দায়বদ্ধতা - নিয়ম লঙ্ঘন করলে শুধু সংস্থার সুনামই নষ্ট হবে না, বরং এর পরিচালক, ট্রাস্টি এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারাও ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন। তবে, সর্বোচ্চ কারাদণ্ড ৫ বছর থেকে কমিয়ে ১ বছর করার বিধান রাখা হয়েছে।
তদন্তের জন্য অনুমোদন আবশ্যক - এফসিআরএ সম্পর্কিত মামলাগুলিতে, এখন থেকে কোনো তদন্তকারী সংস্থাই কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া সরাসরি কোনো পদক্ষেপ বা তদন্ত শুরু করতে পারবে না।
মার্কিন কংগ্রেস সদস্য কেন ক্ষুব্ধ?
ভারতের এই অভ্যন্তরীণ আইনগত বিষয়টি আমেরিকাতেও রাজনৈতিক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কংগ্রেসম্যান রাইলি মুর প্রকাশ্যে এই বিলের বিরোধিতা করেছেন। তিনি এই প্রস্তাবিত সংশোধনীকে ভারতে বসবাসকারী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপর সরাসরি আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন কংগ্রেসম্যান রাইলি মুর লিখেছেন যে, ভারতে খ্রিস্টধর্মের একটি অত্যন্ত প্রাচীন ইতিহাস রয়েছে এবং সেন্ট টমাসের সময় থেকেই এর উপস্থিতি বিদ্যমান। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এই আইনের আড়ালে ভারত সরকার গির্জা, খ্রিস্টান দাতব্য সংস্থা এবং তাদের সাথে যুক্ত এনজিওগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর প্রভাবের কথা বলেছেন
রাইলি মুর সরাসরি সতর্ক করেছেন যে, ভারতীয় সংসদ যদি এই বিলটি তার বর্তমান রূপে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে, তবে এটি ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য একটি গুরুতর উদ্বেগের কারণ হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, বিরোধী ও বিদেশি চাপের মধ্যে সরকার কীভাবে সংসদে এই বিলটি পাস করবে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


