ভারতবর্ষের ইতিহাসের সবথেকে বর্ণময় ভোটপর্বের আক্ষরিক সমাপ্তি ঘটতে চলেছে আজ। জনাদেশে ৩০৩টি আসন পেয়ে মসনদে বসছেন মোদী। আরও পাঁচ বছরের মোদীরাজ শুরু হওয়ার প্রাক্কালে গোটা রাষ্ট্রপতি ভবনে সাজো সাজো রব। আসছেন মোট সাড়ে সাত হাজার অভ্যাগকত। সমস্ত রাজনৈতিক দূরত্ব ভুলে যাচ্ছেন বিরোধীরাও। এমনকি সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীও যাচ্ছেন এই অনুষ্ঠানে। শুধু যাচ্ছেন না মমতা। 

আরও পড়ুনঃ
সৌজন্যের রাজনীতিতে আজও তাঁরা অবিচল, শপথ গ্রহণে থাকবেন সোনিয়া, রাহুল

প্রথমে মমতা জানিয়েছিলেন সংবিধানকে সম্মানার্থে তিনি এই অনুষ্ঠানের শরিক হতে চান।  কিন্তু গত বুধবার ট্যুইটে তিনি ইউ টার্ন নিয়ে জানান, "আমার পরিকল্পনা ছিল সাংবিধানিক নিমন্ত্রণ রক্ষা করার। কিন্তু শেষ এক ঘন্টায় দেখতে পাচ্ছি বিজেপি সংবাদমাধ্যমে দাবি করছে, বাংলায় রাজনৈতিক নৈরাজ্যে ৫৪ জন বিজেপি কর্মী মারা গিয়েছে। এটা সম্পূর্ণ অনৈতিক। বাংলায় একটি রাজনৈতিক মৃত্যুও হয়নি। আমি নরেন্দ্র মোদীর দলের দাবিতে ক্ষুব্ধ। ফলে আমি আমার সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেছি। কাল শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকছি না।"  

কেন মমতা এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, রইল ব্যখ্যাঃ

১ প্ৰথমে কথা দিয়ে ফেললেও পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন মমতা। দলের এত বড় ভাঙনের মধ্যে তিনি যদি দিল্লি চলে যান, দলীয় কর্মীদের মনোবল তলানিতে গিয়ে ঠেকবে।

২ মমতা বন্দোপাধ্যায় ২০১১ সালে নিজে শপথ গ্রহণের সময়ে শহিদ পরিবারের লোকজনকে ডেকে নিয়েছিলেন অনুষ্ঠানে। কিন্‌তু আজ রাজনৈতিক শহিদের পরিবারকে যখন শপথগ্রহণের জন্যে ডাকছেন মোদী, মমতা বিরূপ হচ্ছেন। এই স্ববিরোধের কারণটিও অজানা নয়, মমতা গেলে প্রমাণ হয়ে যায় মোদীর হিংসা তত্ত্ব ঠিক। পরবর্তী কালে তৃণমূলের তা আরও বড় ভাঙন ধরাবে।

৩ চিরকালই মমতার প্রধান জোর নীচুতলা। তাঁরাই মমতার ভোটব্যাঙ্ক। এবার ভাঙন ধরেছে সেইখানেই। সেই ক্ষত মেরামতে আদাজল খেয়ে নেমেছেন মমতা। ভোট মিটতেই সরকারি কর্মীদের জন্যে অ্যাড হক বোনাস চালু করেছেন। ৪৯ অগ্রদানী পুরোহিতকে ভাতা দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে কংগ্রেসি ঘরানার সৌজন্যের রাজনীতি করে এই নীচুতলাকে ভুল বার্তা দিতে চান না মমতা।

৪ বিরোধিতা মমতার চিরকালীন অস্ত্র। আপোষের সময়ও নয় এটা, ভালই জানেন মমতা। তাছাড়া হিংসার আবহে মমতা রাজ্য ছাড়াটাও ঠিক বলে মনে করছেন না।মাথার ওপর রয়েছে সারদার খাড়া। যে কোনও সময় তা নাটকীয় মোড় নিতে পারে। যখন তখন গ্রেফতার হতে পারেন তাঁর মতে 'বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আইপিএস'। কাজেই এই নড়বড়ে অবস্থায় মমতা চাইছেন নবান্ন থেকেই সবটা দেখতে।

৫ আজ দিল্লি গেলে মুখ দেখতে হবে একদা প্রাণপ্রিয় মুকুল রায়ের। মমতা বলেছিলেন 'এক মুকুল গেলে লক্ষ মুকুল আসবে।' মমতা ভালই জানেন এ কথা কত বড় ভুল। লোকসভা ভোটে তৃণমূল ধ্বসে গিয়েছে এই চাণক্যের সৌজন্যে। এই মুহূর্তে ঘাতক, অবিশ্বাসী, শত্রুকে হজম করাও সম্ভব নয় তাঁর পক্ষে।

৬ ইফতার চলছে। মমতা প্রতিবছরের মত‌ো এ বছরও ইফতার পালনে যাবেন। লোকসভা ভোটে মমতার মান রেখেছে মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ক। মমতা চান না এই সম্প্রদায়ের কাছে তাঁর ইমেজ এতটুকুও টাল খাক।