গোটা বিশ্বের কাছে এক ভয়ঙ্কর নাম এই করোনা। এই নামটা শুনলেই প্রত্যেকেই যেন আতঙ্কিত। মুহূর্তের মধ্যে একজনের থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস।  মানুষের নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের সঙ্গেই ছড়িয়ে যাচ্ছে এই রোগের জীবানু। কোনওভাবেই আটকানো যাচ্ছে না এই ভাইরাসকে।  সার্সের থেকে ভয়ঙ্কর আকার নিয়েছে এই করোনা ভাইরাস। ক্রমশই যেন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে করোনা। ১০০০ নয়, বরং ১০০০-র চাইতেও প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনা ভাইরাসের মৃতের সংখ্যা। সময় যত এগোচ্ছে তত যেন লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।  মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাড়াল ২০০০। বুধবার ফের ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে হুবেই প্রদেশে।

 

 

 করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে উহানের উচ্যাং হাসপাতালের ডিরেক্টরের। সেই মৃত্যু ঘিরে ক্ষোভের মুখে  পড়েছে চিন সরকার। গত সপ্তাহেই উহানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৬ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে জড়িত আর ১,৭১৬ জন কর্মীও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭২ হাজারেরও বেশি দাড়িয়েছে।  পুরোনো  রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গেল নয়া রেকর্ড। নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাও হু হু করে বাড়ছে। ইতিমধ্যেই এই রোগকে মহামারি বলে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। 

আরও পড়ুন-করোনা আক্রান্তে নিখোঁজ সাংবাদিক, হু হু করে বাড়ছে মৃত্যু মিছিল...

করোনা ভাইরাসের আঁতুড়ঘর চিন। এই নিয়েই উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ক্রমশ। চিকিৎসক মহলের দাবি, আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর হার সার্সের সময় অনেক বেশি ছিল।  করোনা ভাইরাসের ফলে যে বিপুল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন তার তুলনায় মৃত্যুর হার যথেষ্ঠই কম।  কিন্তু এই ভাইরাস অতি দ্রুত ছড়াচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফ থেকেও জানানো হয়েছে কোনও ভারতীয় যেন চিনে না যায়।   অন্যদিকে করোনা ভাইরাস নিয়ে জাতীয় স্তরে হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস 'ইউহান করোনা ভাইরাস' বা 'চিনা করোনা ভাইরাস নয়', এবার নয়া নামকরণ হল করোনা ভাইরাসের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী এই করোনা ভাইরাসের অফিশিয়াল নাম 'কোবিড-১৯'।  এই আতঙ্কের মধ্যে সুখবর শুনিয়েছে  বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা। দেড় বছরের মধ্যেই এই ভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার করে ফেলবেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু তাতেও কিছু হচ্ছে না । মৃত্যু সংখ্যা যেন  লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েই চলেছে।