পৃথিবীতে প্রেম-ভালোবাসার অনেক গল্পই আমাদের জানা। কিছু ব্যর্থতা আবার কিছু প্রাপ্তি,  এই নিয়েই গড়ে ওঠে ভালোবাসার সম্পর্কগুলো। একজন পুরুষের কোনও নারীকে ভালো লাগটাই স্বাভাবিক। তার মানে এই নয় যে, সেই নারীরও তাকে ভালো লাগতে হবে। এমনটা একজন নারীর পছন্দের ক্ষেত্রেও হতে পারে। কিন্তু প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করার শাস্তি যে এতো নিষ্ঠুর হতে পারে, তা আমাদের মধ্যে অনেকেই কল্পনাতেও আনতে পারব না। 

আজ থেকে প্রায় তিন দশক আগেকার কথা। জাপানের সাইতামা প্রিফেকচারের ইয়াশিও-মিনামি হাই স্কুলে পড়তো এক কন্যা। নাম ছিল তার জুনকো ফুরুতা। সমবয়সী আর আট-দশটি ছেলেমেয়ের মতো ফুরুতার চোখ জুড়েও ছিল ভবিষ্যতের জন্য দেখা হরেক রকম রঙিন স্বপ্ন। জীবনকে এক সুন্দর ছাঁচে ফেলে গড়ে নেয়ার আকাঙ্ক্ষা তার মনের কোণেও উঁকি দিয়েছিল নিশ্চই। এভাবেই একদিন ১৭ বছরে পা দিয়েছিল জুনকো।

আরও পড়ুন: ব্যক্তিগত সচিব তুলেছিলেন যৌন হয়রানির অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার ৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার মেয়রের দেহ

 জাপানের সায়তামা প্রদেশের মিসটোরের উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রী জুনকো বেশ সুন্দরী ছিলেন। আর এজন্য তার প্রতি ছেলেদের আগ্রহ লেগেই থাকতো। কিন্তু সমবয়সীদের মত ধূমপান বা অ্যালকোহলের কোনও নেশাই ছিল না এই কিশোরীর। এদিকে হিরোশি মিয়ানো নামে একটি ছেলে জুনকোকে পছন্দ করতে শুরু করেছিল।  ভালোবাসার কথাও একদিন জুনকোকে জানিয়ে দেয় মিয়ানো। তবে জুনকো হিরোশির প্রস্তাবে রাজি না হয়নি, আর তাতেই তার জীবনে নেমে এসেছিল চরম বিপদ। প্রতিশোধ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল হিরোশি।

 

 

জানা যায়, ১৯৮৮ সালের ২৫ শে নভেম্বর, হিরোশিসহ ৪ জন কিশোর অপহরণ করে জুনকোকে। তারা জুনকোকে টোকিওর আতাচিতে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। এর প্রাণের ভয় দেখিয়ে জুনকোকে বাধ্য করে তার বাবা মাকে ফোন করে বলতে, যে সে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কিছুদিনের জন্য ঘুরতে এসেছে। এরপর শুরু হয় জুনকোর উপর অমানবিক নির্যাতন। তার উপর নির্যাতন এতটাই ভয়াবহ ছিলো যে, কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কোনোদিন চিন্তা করতে পারবে না। এমনকি কোনো লেখক ভুলেও তার গল্পের কোনো চরিত্রকে এমন নির্যাতনের মুখোমুখি করতে সাহস করবেন না। 

আরও পড়ুন: মহামারি থেকে বাঁচুক বিশ্ব, ভ্যাকসিন তৈরির জন্য ৩৩০০ কোটি দান করলেন এই ভারতীয় শিল্পপতি

জুনকোকে ৪৪ দিন আটকে রাখা হয়। আর এই ৪৪দিন ধরে তার উপর অমানষিক অত্যাচার চলেছিল। তাকে সর্বক্ষণ উলঙ্গ রাখা হত এবং এই ৪৪ দিনে তাকে ১০০ জনের বেশি ব্যাক্তি ৫০০ বারের মত নানা উপায়ে ধর্ষণ করে। 

প্রতিদিন মানুষের কল্পনারও বাইরে নানারকম নির্যাতন করা হত তার উপর। জুনকোকে এই সময় প্রতিদিন নিয়ম করে পেটানো হত এবং বোতল, কাঁচি ও লোহা সহ নানা জিনিস তার যৌনাঙ্গে ঢোকানো হত। বাধ্য করা হত জ্যান্ত তেলাপোকা ও নিজের মূত্র পান করার জন্য। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গা পুড়িয়ে দেয়া হয়। তার স্তনও কেটে নেওয়া হয়।

এখানেই শেষ নয় অত্যাচারের কাহিনী।  তাকে ঝুলিয়ে রেখে বক্সিং ব্যাগ হিসেবে ব্যবহার করা হত। ঘন্টার পর ঘন্টা ফ্রিজে রেখে দেওয়া হত। লাইটার দিয়ে চোখের মনি, যৌনাঙ্গ ও ক্লাইটোরিস পুড়িয়ে দেয়া হয়। সুঁই দিয়ে শরীরে অসংখ্য ছিদ্র করা হয়। জুনকো নিঃশ্বাস নিতে পারত না কারণ নাকে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছিল। বিভিন্ন আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের জন্য তার পাকস্থলী খাবার হজম করতে পারত না, ফলে বমি করে দিত। এই অবস্থায় কার্পেট নোংরা করার জন্য তাকে আরও মারধর করা হত। 

অপহরণের ২০ দিন পর সুযোগ পেয়ে পুলিশকে ফোন করতে গিয়ে ধরা পড়ে জুনকো। তারপর তার পা আগুন দিয়ে পুরোপুরি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সে হাঁটতে পর্যন্ত পারত না। এমনকি হাতও নাড়াতে পারত না, কেননা তার হাড় ভেঙে দেয়া হয় এবং নখ তুলে নেয়া হয়। ৩০ দিনের দিন থেকে জুনকোর মুত্রত্যাগ বন্ধ হয়ে যায়। শেষের দিকে কানেও শুনতে পেতেন না তিনি। এক সময় জুনকো এতো অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অপহরণকারীদের কাছে নিজের মৃত্যু ভিক্ষা চায়। 

 

 

৪৪ দিন ধরে পাশবিক অত্যাচার সহ্য করার পর জুনকো মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু সবচেয়ে অবাক হওয়ার ঘটনা, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরও কোনো আসামীরই যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ডের মত শাস্তি হয়নি। কেননা তারা সবাই ছিল ১৮ বছরের নিচে।