শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বেড়েছে। বর্তমান ইউনূস সরকার এই ঘটনাগুলোকে সাম্প্রদায়িক হিংসা না বলে অপরাধমূলক কাজ হিসেবে চিহ্নিত করছে। 

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে সংখ্যালঘু হিন্দুরা কঠিন সময়ে মধ্যে কাটাচ্ছে বাংলাদেশে। প্রতিদিনই তাদের ওপর চলছে নির্যাতন। মারধর, বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া, চুরি ও ধর্ষণের মতো ঘটনা রোজই গেলে রয়েছে। সেই সঙ্গে তালমিলিয়ে চলছে হিন্দু নিধন। জনসমক্ষে হিন্দুদের হত্যা চলছে। বর্তমান ইউনূস সরকার আবার এই সব ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হিংসা বলে মানতে নারাজ। সরকারের পক্ষ থেকে এগুলোকে অপরাধমূলক কাজ হিসেবে বলা হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হল, এই নিয়ে কী বলছে ইউনূস সরকার? আসলে জুলাই-অগাস্ট অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে এখন অন্তবর্তী সরকার চলছে। সেই সরকারের মাথায় রয়েছে মহম্মদ ইউনূস। আর সেই সরকাক ২০২৫ সালের সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের একটি রিপোর্ট সামনে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে মোট ৬৪৫ টি সংখ্যালঘু হিংসার ঘটনা ঘটেছে। তারমধ্যে মাত্র ৭১টি ঘটনার পিছনে সাম্প্রদায়িক চিন্তাভাবনা ছিল। বাকি সব অপরাধ মানসিকতা থেকে হয়েছে।

এই তথ্য অনুসারে, মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ৩৮টি, অগ্নিসংযোগ ৮টি, চুরি ১টি, হত্যার ঘটনা ১টি। তেমনই মূর্তি ভেঙে ফেলা বা হুমকির ঘটনা ২৩টি। এমন ৭১টি ঘটনার মধ্যে ৫০টি পুলিশ কেস আছে। এই সরকারের দাবি, ৫১টি ক্ষেত্রে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝামেলা, ২৩টি জমি নিয়ে ঝামেলা, ১০৬টি চুরির ঘটনা, ২৬টি পুরন শত্রুতা, ৫৯টি ধর্ষণ এবং ১৭২টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে পুলিশ কেস হয়েছে ৩৯০টি। তার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে রিপোর্ট বলছে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩১ লক্ষ হিন্দু আছে। আর এই সংখ্যাটা জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ। এছাড়া বাংলাদেশে বৌদ্ধ থেকে খ্রিস্টানরাও রয়েছে। আর তাদের ওপরই নিত্যদিন হামলা চলছে বলে অভিযোগ।

এই রিপোর্ট সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে সর্বত্র। বাংলােশ হিন্দু বুদ্ধ খ্রিস্টান ইউনিটি কাউন্সিলের নেতা কাজল দেবনাথ এই রিপোর্ট উড়িয়েদেন। তাদের মত এই ধরনের বার্তা অপরাধীদের উৎসাহিক করবে।