বিশ্বে মহামারীর আকার নিয়েছে করোনা সংকট। পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ইউরোপের সব তাবড় তাবড় দেশগুলি। করোনা সংক্রমণে বিশ্বের রেকর্ড গড়ে ফেলেছে আমেরিকা। ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, ব্রিটেন, আমেরিকা জুড়ে কেবল মৃত্যু মিছিল। সেখানে বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশের পরিস্থিতি তুলনায় অনেকটাই ভাল। ঘন জনঘনত্ব হওয়া সত্বেও এখনও ভারতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি। এরজন্য স্বয়ং ভারত সরকারের প্রশংসা কড়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 'হু'। করোনা নিয়ন্ত্রণে ভারতের পথ অনুসরণ করছে বিশ্বের বহু দেশ। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দেশে তড়িঘড়ি লকডাউন জারি করেছেন,  তাকে বাহবা দিচ্ছেন অনেকেই। এবার মোদী প্রশংসায় মাতলেন স্বয়ং মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে যেভাবে দেশে করোনা যুদ্ধ লড়া হচ্ছে তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মিস্টার গেটস। 

ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকরা, ঘোষণা করা হল ১০ লক্ষের বিমা

আশঙ্কাই সত্যি হল , করোনার ধাক্কায় বর্ধিত ডিএ দেড় বছরের জন্য স্থগিত করল কেন্দ্র

করোনা থেকে রেহাই মিলল না পোষ্যেরও, মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত গৃহপালিত বিড়াল

ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা ওই চিঠিতে বিল গেটস উল্লেখ করেছেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে আপনার নেতৃত্বে যে লড়াই ভারত সরকার করছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আপনাদের অক্লান্ত চেষ্টার জন্যই ভারতে এই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশব্যাপী লকডাউন করা, শারীরিক পরীক্ষা করে হটস্পট চিহ্নিত করা, করোনা আক্রান্তদের আইসোলেশনে পাঠানো, তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন করা। আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে আরও বরাদ্দ বিনিয়োগ করা। করোনার মোকাবিলার জন্য স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর যে জোর দেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত উপযোগী। খুব ভাল কাজ করছেন আপনারা।

প্রধানমন্ত্রী মোদীকে লেখা চিঠিতে তাঁর বক্তব্য, ‘‘আপনার নেতৃ্ত্বে এবং আপনার সরকার যে ভাবে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিয়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, আমরা তার প্রশংসা করি। দেশ জুড়ে লকডাউন, আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা, হটস্পট চিহ্নিত করে সেগুলিকে আলাদা করে, আইসোলেশন, কোয়রান্টিন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে মজবুত করে ব্যয়বরাদ্দ করা—সব ক্ষেত্রেই খুব ভাল কাজ করেছেন আপনারা।’’

করোনার মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার ‘আরোগ্য সেতু’ অ্যাপ চালু করেছে। করোনা সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য মিলছে সেই অ্যাপে। তার প্রশংসা করে বিল গেটস লিখেছেন, ‘‘আরোগ্য সেতুর মতো অ্যাপ চালু করে ডিজিটাল অভিনবত্বের সূচনা করেছেন। আমি আনন্দিত যে আপনার ব্যতিক্রমধর্মী ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার করেছেন। কোভিড-১৯-এর মোকাবিলায় সূচনা করেছেন আরোগ্য সেতুর মতো অ্যাপ।’’

ভারতে প্রথম সংক্রমণ শুরু হয়েছিল জানুয়ারি মাসে। প্রথম কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়ে কেরলে। সেই রাজ্যে এখন প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে সংক্রমণ। অন্য দিকে গত প্রায় চার  মাসে সারা দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত  ২১ হাজার। ফলে ইউরোপ-আমেরিকার বহু দেশের চেয়ে ভারতের পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা গিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্বের বিজ্ঞানী ও চিকিৎসা মহল।