উত্তর কোরিয়ার সর্বময় কর্তা কিম জং উনের স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে ক্রমেই তৈরি হচ্ছে ধোঁয়াশা। এর মধ্যেই হংকংএর একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করে বসে মারা গিয়েছেন কিম। যদিও এই খবরের সত্যতা কেউই স্বীকার করেনি। তবে দুনিয়া জুড়ে যখন কিমকে নিয়ে ক্রমেই দানা বাঁধছে রহস্য তখন চিন থেকে এক বিশেষ বিশেষজ্ঞদল নাকি হাজির হয়েছেন পিয়ংইয়ং-এ। উত্তর কোরিয়ার নকনায়কের চিকিৎসার জন্য এই বিশেষ চিকিৎসক দল নাকি পাঠিয়েছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনিপং।

 

 

চলতি মাসের ১১ এপ্রিল শেষবার জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল কিম জন উনকে। ওইদিন তিনি দেশের ক্ষমতাসানী দলের এক পলিটব্যুরো বৈঠকে যোগ দেন। যদিও পরদিন উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায় যে, তিনি একটি আকাশ মহড়ায় যোগ দিয়েছেন। তবে গত ১৫ এপ্রিল তার দাদু, উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুংয়ের ১০৮ তম জয়জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োদিত কুমসুসান রাজপ্রাসাদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি তাঁকে। তারপর থেকেই  কিমের স্বাস্থ্য নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে।

আরও পড়ুন: সাহসিকতায় ফের নজির গড়ল নারীশক্তি, আমেরিকার মত ব্রিটেনেও প্রথম ভ্যাকসিন নিলেন এক মহিলা

৩৬ বছর বয়সী কিম অত্যধিক ধুমপান করতেন। খুব মোটা হয়ে গিয়েছিলেন। তার ওপরে অত্যন্ত পরিশ্রম করতেন। আর তাতেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে মনে করছেন অনেকে। দেশে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। তারপর কিম আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। উত্তর কোরিয়ার চিকিৎসাকরা তাঁকে কিছুতেই সুস্থ করতে পারছেন না। তাই এবার পরিস্থিতি সামাল দিতে উত্তর কোরিয়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের  একটি দল পাঠিয়েছে চিন। 

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারই পিয়ংইয়ংয়ের পৌঁছয়  দু’জন চিকিৎসক-সহ চিনা প্রতিনিধি দল। ওই দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন চিনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এক শীর্ষ নেতা।  জানা যাচ্ছে, দু’সপ্তাহ আগে হৃদপিণ্ডে অস্ত্রোপচার হয় উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উনের। ২০০৮ সালে কিম জং উনের বাবা যখন হৃদরোগে আক্রান্ত হন, তখনও তাঁর চিকিৎসার জন্য চিন থেকে ডাক্তাররা গিয়েছিলেন।   

মহামারীতে তছনছ বিশ্ব, করোনাভাইরাস কী জানেনই না নাকি এই বিশ্বভ্রমণে বেরোন দম্পতি

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ওয়েবসাইট  জানায়, হায়াং সান হাসপাতালে ভর্তি আছেন কিম। ওই হাসপাতালটি তাঁর পরিবারের জন্য বিশেষভাবে বানানো হয়েছিল। উত্তর কোরিয়া থেকে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, বহাল তবিয়তে আছেন কিম। 

এদিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম যে খবর বেড়োচ্ছে তা  সঠিক নয় বলেই  মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে উত্তরকোরিয়ার  কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর এবিষয়ে কোনও কথা হয়েছে কিনা তা বলতে অস্বীকার করেন তিনি। হোয়াইট হাউসের সাংবাদিক সম্মলনে ট্রাম্প বলেন, "আমি মনে করি, ওই খবর অসত্য। পুরনো নথির ওপর ভিত্তি করে ওই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।" এর আগেঅবশ্য উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সুস্বাস্থ্য কামনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

 

এর মাঝেই আবার শোনা যাচ্ছে, দাদার অসুস্থতার কারণে উত্তরে কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের শাসনভার সাময়িকভাবে হাতে নিতে পারেন কিম জং উনের সহোদর বোন কিম ইও জং। উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি, সরকার ও সেনাবাহিনীতে কিম ইও-র বিরাট প্রভাব রয়েছে।