এই আতঙ্ক থেকে মুক্তি মিলবে কবে! করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে করতে কেটে গেল এক বছর। পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বিস্তর, কিন্তু নিরাপদ ভ্যাকসিন অধরা এখনও। সারা বিশ্বের আক্রান্তের ৫৫ লক্ষ ছাড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজ্যে কমলো করোনা সংক্রমণের হার, গত ২৪ ঘন্টায় মৃতের সংখ্যা ৫৩

পরিস্থিতি যে এতটা ভয়ঙ্কর আকা নেবে, তা কে জানত! বিশ্বে প্রথম করোনা আক্রান্তের হদিশ মেলে চিনে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের আজকের দিন অর্থাৎ ১৭ নভেম্বর চিনের হুবেই প্রদেশে মধ্য বয়সী এক ব্যক্তি সংক্রমণের শিকার হন। এর বেশি আরও অনেক তথ্যই প্রকাশ্যে আনে সেদেশের সরকার। এমনকী, আক্রান্ত ব্যক্তি পুরুষ না মহিলা, জানা যায়নি তাও। এরপর রোগ ছড়াতে শুরু করে হু হু করে। অচিরেই এই হুবেই প্রদেশ হয়ে ওঠে চিনে করোনা সংক্রমণের আঁতুড়ঘর! আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে সাতষট্টি হাজার ছাড়িয়ে যায়। ২৩ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত লকডাউন চলছে সেখানে।

এই হুবেই প্রদেশেরই রাজধানী শহর হইহান। এই শহর এখনও পর্যন্ত ৫০ হাজারের কাছাকাছি করোনা আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। প্রাণ দু হাজারের বেশি মানুষ। স্থানীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তরফে তেমনটাই জানানো হয়েছে। ডিসেম্বর নাগাদ যখন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে শুরু করেছে, তখন স্থানীয় এক চিকিৎসক প্রথম নয়া রোগের কারণ হিসেবে করোনাভাইসারকে চিহ্নিত করেন। এরইমধ্যে আবার করোনাভাইরাস নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে পুলিশি নজরে পড়েন আরও এক চিকিৎসক। তাঁকে রীতিমতো সতর্ক করে দেওয়া হয়। দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, শেষপর্যন্ত ওই চিকিৎসক নিজেও করোনা আক্রান্ত হয়ে মারাও যান।

আরও পড়ুন: বিশ্বের তৃতীয় ধনপতি এলন মাস্কের শরীরেও করোনাভাইরাসের হানা, তাতেও থেমে নেই লক্ষ্মীলাভ

চিন সরকার কিন্তু এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাস নিয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে গোড়ার দিকে সেদেশে সংক্রমণ যে কত দ্রুত ছড়িয়েছিল যে, সে সম্পর্কে বিভিন্ন সূত্র থেকে ইঙ্গিত মিলেছে স্পষ্টই। আর এখন তো করোনাভাইরাস কোন নির্দিষ্ট দেশের সীমানায় আটকে নেই. ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বেই। ইটালিতে কার্যত মৃত্যুমিছিল চলেছে। করোনা ঢুকে পড়েছে ভারতে, পশ্চিমবঙ্গেও।