দারুণ সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার সরকার পরিবার। বাংলাদেশে এখন সরকারি সব নথিই বায়োমেট্রিক, আর তার জন্য আঙুলের ছাপ আবশ্য়িক। কিন্তু, চার প্রজন্ম ধরে সরকার পরিবারের পুরুষদের আঙুলের কোনও ছাপ পাওয়া যায়না। কারণ অন্যান্যদের মতো তাদের আঙুলের ডগায় গোলারৃতি দাগ নেই, একেবারে মসৃণ। তাই সরকারি নথি বের করতে তাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত।

ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসি-র এক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে ২২ বছর বয়সী অপু সরকার এবং তাঁর বাবা অমল সরকার, দুজনেরই হাতের আঙুলের কোনও ছাপ পাওয়া যায় না। শুধু তাঁরাই নন, গত চার প্রজন্ম ধরেই এই আশ্চর্য বিষয় চলে আসছে তাঁদের পরিবারে। অপু জানিয়েছেন তাঁর ঠাকুর্দার আঙুলের ছাপ না থাকা নিয়ে কোনও সমস্যা হয়নি। তাঁর বাবাও জীবনের বেশিরভাগ সময় এই নিয়ে কোনও ঝামেলায় পড়েননি। সমস্যা তৈরি হয়েছে হালে। সরকারি নথিতে বায়োমেট্রিক ডকুমেন্টেশনের জন্য আঙুলের ছাপ এখন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, আর তাঁদের আঙুলের কোনও ছাপই নেই।

আঙুলের ডগার এই ছাপকে বলে ডার্মাটোগ্লাইফ, প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রে এটি হয় অনন্য

কিন্তু, কেন এইরকম অবস্থা তাঁদের? চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটা একটা বিরল জিনগত সমস্যা। একে বলে অ্যাডারমাটোগ্লাইফিয়া। যাঁদের এই সমস্যা রয়েছে তাদের ডার্মাটোগ্লাইফ, অর্থাৎ আঙুলের ডগায় গোলকৃতির নকশা থাকে না। যে নকশা প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হয় বলেই আঙুলের ছাপকে অন্যতম পরিচয় হিসাবে গন্য করা হয়। সরকারি ও বিভিন্ন আইনী নথির ক্ষেত্রে প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

রাজশাহীর সরকার পরিবার জানিয়েছে, যখনি তাঁরা কোনও সরকারি নথি তৈরি করতে যান, তখনই কর্তৃপক্ষকে তাঁদের এই বিরল শারীরিক অবস্থাটির কথা বোঝাতে হয়। বোঝাতে হয়, এই অবস্থাটা তাঁদের কোনও দোষে হয়নি। জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের জন্য অপু এবং অমল সরকারকে এই বিষয়ে সরকারি কর্তৃপক্ষকে ডাক্তারি শংসাপত্র দিতে হয়েছে। এই সরকারি পরিচয়পত্রগুলিতে রেটিনা স্ক্যান এবং ফেসিয়াল রেকগনিশন-এর মতো বিকল্প বায়োমেট্রিক পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে।

বর্তমানে বায়োমেট্রিক পরিচয়ের জন্য দারুণ গুরুত্বপূর্ণ আঙুলের ছাপ

তবে মোবাইলের সিম কার্ড কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স এখনও তাঁরা বের করতে পারেননি। বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী ড্রাইভিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও স্রেফ আঙুলের ছাপ নেই বলে দু-দু'বার তাঁকে লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। একবার সঙ্গে লাইসেন্স ফি প্রদানের রশিদ থাকা সত্ত্বেও, মসৃণ আঙুলের জন্য তাঁকে জরিমানা করা হয়েছিল। তারপর থেকে আর ড্রাইভিং লাইসেন্স করাতেই যাননি তিনি। একই কারণে সমস্যায় পড়বেন বলে, পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও বিদেশ ভ্রমণ করতে চান না তাঁরা।   

বস্তুত, ২০০৭ সালে এক সুইস মহিলা এই বিরল জিনগত সমস্যার কারণে আঙুলের ছাপ না থাকায় আমেরিকায় প্রবেশ করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছিলেন। তিনি জানান, মার্কিন কাস্টমস-এর কর্মকর্তারা তাঁর পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে তাঁকে মেলাতে পারলেও আঙুলের ছাপ নিতে না পারার কারণে তাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেননি। ওই মহিলার ক্ষেত্রেও পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের অ্যাডারমাটোগ্লাইফিয়া ছিল।