Irans Interim Leader: আমেরিকা ও ইজরায়েলের মারাত্মক হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই। তাঁর শূন্য পদ পূরণের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন লিডারশিপ কাউন্সিল গঠন । আলিরেজা আরাফিকে এই কাউন্সিলের আইনজ্ঞ সদস্য হিসেবে নিয়োগ করেছে। 

আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় যখন ইরান উত্তাল, ঠিক তখনই দেশের শাসনভার সামলাতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল গঠন করা হল। রবিবার আল জাজিরার রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ইরানের গার্জেন কাউন্সিলের ধর্মগুরু সদস্য আলিরেজা আরাফিকে দেশের লিডারশিপ কাউন্সিলের আইনজ্ঞ সদস্য হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ইরানের অন্তর্বর্তী নেতা

যতক্ষণ না অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করছে, ততক্ষণ এই কাউন্সিলই সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব সামলাবে। আল জাজিরার খবর অনুযায়ী, এই অস্থায়ী লিডারশিপ কাউন্সিলে আরাফির সঙ্গে থাকছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেন মোহসেনি এজেহি।

আলরিজা আরিফ

কম পরিচিত হলেও প্রতিষ্ঠিত আলেম। ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্ট্‌স-এর ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসাবে কর্মরত ছিলেন। একই সঙ্গে ইরানের শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান হিসাবেও দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন আলরিজা আরাফি। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আলি খামেনেইর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ঘোরাফেরা করেছেন। সরকারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ নেই। সামরিক কাজেরও অভিজ্ঞতা নেই।

বদলা নেওয়ার অধিকার

আলি খামেনেইর মৃত্যুর পরেই ইরান দমছে না তা স্পষ্ট করে দিয়েছে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ। তিনি বলেছেন, হামলা প্রতিহত করার আধিকার তাদের রয়েছে। বদলা নেবে ইরান। তিনি আরও বলেছেন, তাদের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অধিকার ইরানের বাসিন্দাদের রয়েছেন।

এর আগে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন যে, 'ইজরায়েলের অস্তিত্বের সংকট' দূর করতে আমেরিকার সঙ্গে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, "আমার ভাই ও বোনেরা, ইজরায়েলের নাগরিকেরা, আপনাদের জন্য সপ্তাহটা ভালো কাটুক। আজ সকালে ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আয়াতোল্লাদের শাসন থেকে ইজরায়েলের অস্তিত্বের সংকট দূর করার জন্য একটি যৌথ অভিযান শুরু করেছে। আমি আপনাদের বলেছিলাম: যতক্ষণ প্রয়োজন এই অভিযান চলবে, এবং এর জন্য ধৈর্যেরও প্রয়োজন।"

নেতানিয়াহু আরও বলেন, "আমি আমার বন্ধু, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাঁর নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানাই। আজ সকালেও আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি এবং আমাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রশংসা করছি। আমরা একটি খুনি সন্ত্রাসবাদী শাসনকে পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত হতে দেব না। আমরা সন্ত্রাসবাদী শাসনের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা এবং হুমকি দূর করা চালিয়ে যাব। এবং আমি ইরানের নাগরিকদের কাছেও আবেদন করছি: সুযোগটি হাতছাড়া করবেন না। আপনাদের ভবিষ্যৎ এবং স্বাধীনতার জন্য একত্রিত হন। ইজরায়েলের নাগরিকেরা, হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশাবলী অনুসরণ করতে থাকুন। আমরা একসঙ্গে দৃঢ় থাকব।"

আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই লাগাতার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নিহত হয়েছেন।

এরপরেই ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নিয়েছে। তারা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের ২৭টি ঘাঁটিতে এবং তেল আভিভে ইজরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে বলে খবর। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি 'আজ খুব কঠোরভাবে' পাল্টা হামলা করে, তবে তাদের 'এমন শক্তির সঙ্গে আঘাত করা হবে যা আগে কখনও দেখা যায়নি' বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।

ইরানের সরকার জানিয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সহ একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল দেশ পরিচালনা করবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম অনুসারে, দেশজুড়ে ২৪টি প্রদেশে এই হামলায় কমপক্ষে ২০১ জন নিহত হয়েছেন।