- Home
- World News
- International News
- কে হবে ইরানে আলি খামেনেইর উত্তরসুরী? জল্পনায় রয়েছে ছেলে থেকে নাতি একাধিক নাম
কে হবে ইরানে আলি খামেনেইর উত্তরসুরী? জল্পনায় রয়েছে ছেলে থেকে নাতি একাধিক নাম
Khamenei's successor: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। একই সঙ্গে পতন হল ৩৭ বছরের তাঁর স্বৈরাচারি শাসনের। এবার ইরানে শুরু হয়েছে খামেনেই-র উত্তরসুরী খোঁজার পালা।

৩৭ বছরের রাজপাট শেষ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। একই সঙ্গে পতন হল ৩৭ বছরের তাঁর স্বৈরাচারি শাসনের। এবার ইরানে শুরু হয়েছে খামেনেই-র উত্তরসুরী খোঁজার পালা।
ইসলামিক রিপাবলিক সরকার
ইরানি বিল্পব বা ইসলামিক বিপ্লবের মধ্যে দিয়েই ইসলামিক রিপাবলিক সরকার গড়ে উঠেছিল। সেই সময় সরকারের মাথায় ছিলেন আয়াতোল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনেই। ১৯৭৯ সালে রাজতন্ত্র-বিরোধী বিপ্লবের মাধ্যমে পহলভি রাজবংশেরশাসক শাহ মহম্মদ রেজা পহলভিকে সরিয়ে খামেনেই ইরানের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেন। এই বিল্পবকে সমর্থন জানিয়েছিল বামপন্থী ও ইসলামিক সংগঠনগুলি।
খামেনেইর উত্তরসুরীর খোঁজ
প্রায় ৪ দশক ধরে ইরানের ক্ষমতায় ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই। মার্কিন -ইজরায়েল হামলায় তাঁর মৃত্যুর পর এবার ইরানের উত্তরসুরী খোঁজার পালা শুরু হয়েছে। ইরানের নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছে ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ আলেমকে নিয়ে গঠন একটি সংস্থা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস।
দ্বিতীয়বার দায়িত্ব পালন করবে
১৯৭৯ সালে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই ধর্মীয় পরিষদ মাত্র একবারই দায়িত্ব পালন করেছে। তিন দশক আগে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনেইর মৃত্যুর পর তড়িঘড়ি আলি খামেনেইকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করেছিল এই সংগঠন।
এবার কী হবে?
এবার কী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ ডোলান্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা এখনই থামাচ্ছে না আমেরিকা। আগামী দিনগুলিতেও এই হামলা অব্যাহত থাকবে। তাই প্রশ্ন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন নিয়ে এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আর বৈঠক হবে কিনা তা নিয়ে। নাকি আগের মতই তড়িঘড়়ি একজনকে নেতা ঘোষণা করে দেওয়া হবে। কারণ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার তালিকায় একাধিক নাম ঘোরাফেরা করছে।
মোস্তফা খামেনেই
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইর দ্বিতীয় পুত্র মোস্তফা। ৫৬ বছর বয়সী মোস্তাফার পর্দার আড়ালে থাকলেও তাঁর প্রভাব বিস্তর। তিনি সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভেল্যুসনারি গার্ড কর্পস ও স্বেচ্ছাসেবী আধা সেনার বাহিনী বাসিজের সঙ্গে সর্বদা ঘনিষ্ট সম্পর্ক রাখেন। রণকৌশল নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাধা রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক নেই। ২০২৯ সাল থেকে তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তিনি সরকারি কোনও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন।
আলরিজা আরিফ
কম পরিচিত হলেও প্রতিষ্ঠিত আলেম। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আলি খামেনেইর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ঘোরাফেরা করেছেন। সরকারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ নেই। সামরিক কাজেরও অভিজ্ঞতা নেই।
হাসান খামেনি
আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনেইর নাতি হাসান। তাঁকে ধর্মীয় ও বিপ্লবী বৈধতা রয়েছে। তাঁর বয়স ৫০। খামেনেইর সমাধি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। কোনও সরকারি পদে নিযুক্ত নন। দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর তাঁর প্রভাব খুব কম। তিনি অনেক সহকর্মীর তুলনায় কম কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালে তাঁকে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসে প্রার্থী হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
হাসেম হোসেইনি বুশেহরি
একজন প্রতিষ্ঠিত আলেম। উত্তরাধিকার নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার অধিকারী। বয়স ৬০। অ্য়াসেম্বলি অব এক্সপার্টসের ডেপুটি চেয়ারম্যান। তিনি খামেনেইর ঘনিষ্ট আত্মীয়। তবে দেশে পরিচিতখুব কম।
কী হবে?
কে হবেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা? তা এখন সময়ের অপেক্ষা। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরান নতুন নেতা নির্বাচন করবে না অন্য কোনও পদক্ষেপ নেবে তা স্পষ্ট করেনি ইরান প্রশাসন। প্রশাসন এখন আমেরিকা আর ইজরায়েলের হামলা সামলাতেই ব্যস্ত রয়েছে।

