প্রথমে খরা, তারপর দাবানল, আর এবার বন্যা। একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে অস্ট্রিলিয়া। গত রবিবার সিডনিতে বৃষ্টি হয়েছে  ১৭৬ মিলিমিটার। ১৯৯২ সালে পর একদিনে এত বৃষ্টি দেখেনি সিডনিবাসী। চলতি সপ্তাহে আরও ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ব্যুরো অফ মেটরোলজি। 

আরও পড়ুন: রাজ্যে শীতের নতুন ইনিংস, ফের স্বাভাবিকের নীচে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

শনিবার বিকেলেই অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূলে আছড়ে পড়েছে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়। এদিকে পূর্ব উপকূলের উপর দিয়ে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। একের পর এক হরপা বানের শিকার হয়েছে দেশের এই প্রান্ত। এরফলে অবশ্য  গত তিন মাস ধরে জ্বলতে থাকা দাবানল কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে এসেছে। 

 

 

শনিবার বিকেলে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূলে প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় ড্যামিয়ান। যদিও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। আছড়ে পড়ার পর ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি হারালেও তীব্র ঝোড়ো হাওয়া সমস্যা বাড়িয়েছে বাসিন্দাদের। সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিপাত। অন্য দিকে গত তিন দিন ধরে প্রায় বিরামহীন প্রবল বর্ষণ চলছে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের সিডনি এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের বিভিন্ন এলাকায়। যার জেরে একাধিক হরপা বানে বিধ্বস্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল। প্রশাসন সূত্রে খবর, ১৯৯৮ সালের পরে বৃষ্টিপাতের জেরে এমন পরিস্থিতি এই প্রথম দেখছে অস্ট্রেলিয়া।

আরও পড়ুন: চিনে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়াল, আতঙ্কের পরিবেশে ভারত থেকে দেশে ফেরান হল চিনা পর্যটককে

 বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে কুইন্সল্যান্ডেও। রবিবারই এই সতর্কবার্তা জারি করেছেন আবহাওয়াবিদেরা। শনিবার রাত থেকে লাগাতার বৃষ্টি চলছে কুইন্সল্যান্ডে। ব্রিসবেনের ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে বৃষ্টির কারণে একটি খাঁড়ি উপচে পড়ায় ড্যালবির বাসিন্দাদের জন্যও বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। দাবানলের প্রভাবেই আবহাওয়ায় বিপুল পরিবর্তন এসেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ঝোড়ো আবহাওয়া এবং প্রবল বৃষ্টিপাতের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। 

খরার কবলে থাকা এই বৃষ্টি অবশ্য অস্ট্রেলিয়াকে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। নিউ সাউথ ওয়েলস এবং সিডনিতে তৈরি হওয়া পানীয় জলসমস্যা এই বৃষ্টির ফলে অনেকটাই মিটতে চলেছে। যদিও এই জলের সঙ্গে দাবানলে ছাই-ভস্ম মিশে যাওয়ার একটা নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত বছর নভেম্বর থেকে ভয়াবহ দাবানলে জ্বলছে অস্ট্রেলিয়ার বিস্তির্ণ অঞ্চল। যার জেরে ভস্মীভূত হয়েছে তিন হাজারের বেশি বাড়ি, মৃত্যু হয়েছে ৩১ জনের। প্রাণ হারিয়েছে কোটি কোটি বন্যপ্রাণ।