২৪ জুন বুধবার ভিকট্রি ডে প্যারেডে যোগ দিতে রাশিয়ায় গিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এই অনুষ্ঠানে থাকবেন চিনের প্রতিনিধিরাও। তাই গুঞ্জন উঠছিল রাশিয়ার মাটিতে চলতে থাকা সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে বৈঠকে বসতে পারে দুই তরফ। তবে রাশিয়ার মাটিকে চিনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রতিরক্ষান্ত্রী কোনও বৈঠক করবেন না বলেই জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার।

তবে ভারত ও চিনের মধ্যে চলতে থাকা এই সীমান্ত উত্তেজনায় সমঝোতায় পৌঁছতে ইতিমধ্যে ময়দানে নেমেছে পুতিনের দেশ। রাশিয়ার সঙ্গে বরাবরই ভারতের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভালো। আবার আমেরিকার সঙ্গে চিনের তিক্ততা জিনপিংয়ের দেশকে রাশিয়ার কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। এই অবস্থায় দুই বন্ধু দেশের মধ্যে সীমান্ত বিবাদ মেটাতে তৎপর মস্কো প্রশাসন। গত ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষের পর চিন ও ভারতের বিদেশমন্ত্রীর পর্যায়ে যে বৈঠক হয়েছিল তার পেছনেও নাকি রয়েছে রাশিয়ার প্রয়াস, অন্তত এমনটাই শোনা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: চিনের দাদাগিরি সহ্য করছে তাইওয়ানও, ভারতীয় সেনাকে প্রকাশ্যে সমর্থন এবার তাই মিডিয়ার

প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গত তিন সপ্তাহে বিভিন্ন স্তরে রাশিয়ার নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন বিদেশসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং মস্কোয় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত। এর মাঝেই মঙ্গলবার  ভারত এবং চিনের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক ভিডিয়ো বৈঠক হয়েছে। যেখানে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে এতে আলোচনায় ছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। রাশিয়ার তরফে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লভরভ।

১৫ জুন লাদাখ সংঘর্ষের আগেই মূলত রাশিয়ার উদ্যোগে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সে সময় অবশ্য করোনাভাইরাসের মতো অতিমারি মোকাবিলার কৌশল নিয়েই আলোচনা হওয়ার কথা ছিল এই বৈঠকে। তবে ভারত-চিন সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গিয়েছে।  

আরও পড়ুন: রাশিয়ায় পৌঁছেই অস্ত্র জোগাড়ে ময়দানে রাজনাথ, এস-৪০০ মিসাইলের দ্রুত সরবরাহের আর্জি পুতিন প্রশাসনকে

এদিকে পুরনো বন্ধু রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা ফের বাড়ানোর ফলে কি কৌশলগত অংশীদার আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য কিছুটা বিঘ্নিত হবে, সেই আশঙ্কাও অবশ্য করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞই। তবে কূটনীতিবিদদের মতে, এখানে প্রত্যেকটি দেশ নিজের স্বার্থের জন্য অন্য দেশকে কাজে লাগাচ্ছে। এক একজনের স্বার্থ এক এক রকম। সেই স্বার্থ যেমন এক দিকে বাণিজ্যিক, পাশাপাশি ভূকৌশলের খেলাও তার সঙ্গে জড়িয়ে। বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে ভারত ও চিন দুই দেশেরই বাণিজ্যিক এবং অন্যান্য স্বার্থ  জড়িত। পাশাপাশি মস্কোও চায়, তাদের সামরিক পণ্যের বিশাল দুই ক্রেতা, ভারত এবং চিনের মধ্যে অস্থিরতা যেন মাত্রাছাড়া পর্যায়ে না পৌঁছয়। কারণটা যে শুধু বাণিজ্যিক তা-ই নয়, এর ভূকৌশলগত দিকও রয়েছে। এই মুহূর্তে রিক (রাশিয়া, চিন, ভারত), ব্রিকস (ব্রাজিল, ভারত, চিন দক্ষিণ আফ্রিকা) এবং এসসিও (সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন)-এর চলতি বছরের নেতৃত্ব মস্কোর হাতে। ভারত এবং চিন এই তিনটি গোষ্ঠীতেই রয়েছে। সূত্রের মতে, রাশিয়া আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষার্থে এই গোষ্ঠীগুলিকে কাজে লাগাতে উন্মুখ। সে ক্ষেত্রে ভারত-চিন সহাবস্থান মস্কোর জন্যও জরুরি।

রাশিয়ার উদ্যোগে রিক বৈঠক হলেও ভারত-চিনের মধ্যে উত্তেজনার আবহে দু’দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় তারা নামবেন বলেই অবশ্য বুলি আওয়াচ্ছে রাশিয়া। এমনকি মঙ্গলবার রিক বৈঠক শেষে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লভরভ বলেন, তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়়াই ভারত ও চিন সীমান্ত সমস্যা মেটাতে সক্ষম। 

এই পরিস্থিতিতে ৩ দিনের রাশিয়া সফরে এখন মস্কোতে রয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এই সফরে রাজনাথ রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক কর্তাদের সঙ্গে কথা বললেও চিনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছে ভারত সরকার।