প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালের মধ্য়ে ১৭৫ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উত্পাদন করার কথা ভারতের। ভারত তা যে শুধু পূরণ করবে তা নয়, তাকে ছাপিয়ে যাবে বলে জি-২০ বৈঠকে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানিয়েছেন ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫০ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উত্পাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। জি-২০'র নেতাদের মোদী বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা বিচ্ছিন্নভাবে করলে হবে না, সংহত, বিস্তৃত ও সামগ্রিক উপায়ে লড়াই করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, ভারত কম কার্বন এবং জলবায়ু-নির্ভরশীল উন্নয়ন পদ্ধতি গ্রহণ করছে। মেট্রো নেটওয়ার্ক, জলপরিবহন এবং অন্যান্য পরবর্তী প্রজন্মের অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। সুবিধা ও দক্ষতার পাশাপাশি এগুলি একটি পরিবেশে পরিচ্ছন্ন রাখতেও বড় অবদান রাখবে। এছাড়া তিনি তুলে ধরেন ভারতের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সৌরশক্তি জোট (আইএসএ) এবং দুর্যোগ প্রতিরোধক অবকাঠামো জোট (সিডিআরআই)-এর কথা।

আরও পড়ুন - জানুয়ারির শেষ থেকেই ভারতে শুরু হবে কোভিডের টিকাকরণ, ৫০ শতাংশ দামে মিলছে অক্সফোর্ডের টিকা

আরও পড়ুন - কোভিড মুক্ত হলেও যাচ্ছে না মৃত্যুভয়, প্রতিরোধের পথ বাতলালো ভারতীয়-মার্কিনিদের গবেষণা

আরও পড়ুন - কোভিড-কে হারিয়েও কাটল না সঙ্কট, ভেন্টিলেশনে অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী

আইএসএ এই মুহূর্তে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল আন্তর্জাতিক জোট। এখন পর্যন্ত ৮৮ টি দেশ এই জোটের শরিক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, সংংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির গবেষণা ও বিকাশকে উত্সাহিত করার লক্ষ্যে কোটি কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে আইএসএ। কার্বন হ্রাসের ক্ষেত্রে ব় অবদান রাখবে এই জোট। আর সিডিআরআই-তে সদস্য হয়েছে ১৮ টি দেশ এবং ৪ টি আন্তর্জাতিক সংস্থা। মোদী জানান, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে পরিকাঠামোগত ক্ষতির বিষয়টি এতদিন যোগ্য মনোযোগ পায়নি। বিশেষত দরিদ্র দেশগুলি এর ফলে দারুণ ভুগতে হয়েছে।

এছাড়া ভারতে এলইডি লাইটকে জনপ্রিয় হওয়ায় প্রতি বছর ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন কম হবে। প্রদানমন্ত্রী আরো জানান, ভারতে উজ্জ্বলা প্রকল্পের মাধ্যমে ৮ কোটিরও বেশি পরিবারের রান্নাঘর এখন হয়েছে ধোঁয়াবিহীন । বিশ্বব্যাপী বৃহত্তম ক্লিন এনার্জি প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি হল এই উজ্জবলা পরিকল্প বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া ভারত একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার দূরীকরণ, বনাঞ্চলকে সম্প্রসারণ এবং একটি চক্রাকার অর্থনীতিকে উত্সাহ দিচ্ছে।