করোনা ক্লান্ত ইতালিতে ভাইরাল হলেন ৪৮ বছরের এক ব্যক্তি অনুরাগ। কারণ এই লকডাউনের মধ্যেই তিনি ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে পড়েছিলেন। আর হয়তো প্রবল বিদ্বেষ নিয়ে এই শীতের দিনে কয়েকশো মাইল পথ অতিক্রম করেছিল। যা নিয়ে কিছুটা হলেও তোলপাড় শুরু হয়েছে ইতালির সংবাদ মাধ্যমে। কারণ ওই ব্যক্তি স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ৪৫০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পার হয়েছিলেলেন। এই শীরের মধ্যে টানা সাতদিন হাঁটার পরেও নাকি তিনি বুঝতে পারেননি তিনি কী করছেন? 

শুধুই কী স্ত্রীর মান অভিমানের জ্বালা সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে? না, এই লকডাউনে বাড়ির বাইরে বার হওয়ার জন্য তাঁকে জরিমানাও দিতে হয়েছে। কিন্তু ইতালির সংবাদ মাধ্যম জানায়নি সেই ব্যক্তি ঠিক কতটা টাকা জরিমানা দিয়েছেন। একটি সূত্র বলছে তাঁকে ৪০০ ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। তবে এই বিষয় নিয়ে রীতিমত মাতামাতি শুরু হয়ে গেছে ইতালির সোশ্যাল মিডিয়ায়। কারণ অনেক নেটিজেনই তার মাইলের পর মাইল পথ হাটাকে স্বাগত জানিয়েছেন। কেউ কেউ তো তাঁকে বীর আখ্যাও দিয়েছেন। কেউ আবার বলেছেন তাঁর কাছে থেকে জরিমানা নেওয়া ঠিক হয়নি। উল্টে পুলিশের উচিৎ ছিল তাঁকে আর্থিক সাহায্য করা। অনেকেই আবার ওই ব্যক্তিতে জুতো কিনে দেওয়ার কথা বলেছেন। 

ব্রিটেনে করোনা টিকাকরণ শুরু, রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে হরি শুক্লা ...

ছবিতে দেখুন কৃষকদের ডাকা ভারত বনধ, কাল রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে বিরোধীরা ..


পুলিশ জানিয়েছে, স্ত্রীর সঙ্গে তুমুল তর্ক বিতর্ক হয়েছিল। আর সেই কারণেই নিজেকে শান্ত করতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিল ৪৮ বছরের ওই ব্যক্তি। তারপরেই তিনি হাঁটতে শুরু করেন। আর হাঁটতে হাঁটতে কখন ৪৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ফেলেছিলেন তা টেরই পাননি ওই ব্যক্তি। প্রায় এক সপ্তাহ করে অ্যাড্রিয়াটিক উপকূলে ফানো বিচ রিসর্টে পৌঁছে ছিলেন তিনি। সেখানেই পুলিশ তাঁকে ইতিউতি ঘুরে বেড়াতে দেখে। তখনই ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে লকডাউন নিময় ভাঙার অভিযোগ দায়ের করা হয়। তখনই সে জানায় সে বুঝতে পারেনি বাড়ি থেকে এতদূরে চলেছে। তিনি জানিয়েছিলিনে রাস্তাতে অনেক মানুষ তাঁকে খাবার আর জল দিয়েছিলেন।  পুলিশ ওই ব্যক্তি সম্পর্কে খোঁজ খবর করতে গিয়ে জানতে পারে তাঁর স্ত্রী কয়েক দিন আগে কোমোতে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাকপরই পুলিশ ওই ব্যক্তিতে একটি হোটেলে রাখে আর খাবার ব্যবস্থা করে দেয়। সবশেষে স্ত্রীর সঙ্গে একই গাড়িতে করে তাঁকে বাড়ি পাঠায়। এই নেটিজেন বলেছেন যদি পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা না থাকত তাহলে কোথায় গিয়ে থামতেন তিনি? অনেকেই আবার এই ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেছেন ১৯৯৪ সালের ফরেস্ট গাম্প ছবিটির। করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আটকাতে ইতালিতে রাত ১০টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত কার্ফু জারি করা হয়েছে।