তাইল্যান্ড-এ শপিং মলে বন্দুকবাজের হামলা। যার জেরে প্রাণ হারালেন অন্তত কুড়িজন। তবে কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলা নয়, এক জুনিয়র সেনা অফিসারই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে। ওই শপিং মল-এ হামলা চালানোর আগে অভিযুক্ত জুনিয়র আর্মি অফিসার সেনা ছাউনিতে তিনজনকে হত্যা করে। ঘটনায় অন্তত দশজন গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বলে জানা গিয়েছে। তবে বেশ কয়েকঘণ্টার চেষ্টা শপিং মল থেকে বন্দুকবাজের হাতে বন্দি হয়ে থাকা সাধারণ মানুষকে বের করে আনতে পেরেছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। 

তাইল্যান্ড-এর নাখোন রাটচাসিমা শহরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই শহর কোরাট নামেও জনপ্রিয়। সেখানকার টার্মিনাল টোয়েন্টি ওয়ান নামে একটি জনপ্রিয় মল-এ এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় ভিড়ে ঠাসা ছিল গোটা শপিং মল। ফলে হতাহতের সংখ্যাও বেড়েছে। 

যে জুনিয়র আর্মি অফিসার এই কাণ্ড ঘটিয়েছে তার নাম সার্জেন্ট মেজর জাকরাপন্থ থোম্মা। যদিও তার সম্পর্কে বিশদে কিছুই বলতে চায়নি পুলিশ। এ দিন বিকেলে প্রথমে একটি সেনা ছাউনিতে তিন জনকে হত্যা করে ওই সেনা অফিসার। এর পর সেখান থেকে একটি সেনাবাহিনীর গাড়ি চুরি করে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ওই শপিং মলে এসে উপস্থিত হয় সে। গোটা ঘটনা ফেসবুক-এ লাইভ পোস্ট করে ওই সেনা অফিসার। শপিং মলে ঢুকেই হাতে  থাকা মেশিন গান থেকে টানা গুলি চালাতে শুরু করে জাকরাপন্থ থোম্মা। যার ফলে বহু মানুষ আহত হন। তাঁদের মধ্যে প্রাণ হারান অনেকে। 

ওই শপিং মলের একতলার দখল নিয়ে নেয় বন্দুকবাজ। সেখানে আটকে পড়েন বহু মানুষ। বন্দুকবাজের হামলার পরেই শপিং মল ঘিরে ফেলে পুলিশ, মিলিটারি কম্যান্ডো এবং শার্প শ্যুটাররা। বেশ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আটকে পড়া সাধারণ মানুষকে উদ্ধার করা হয়। যদিও ওই বন্দুকবাজের কী পরিণতি হয়েছে তা এখনও অজানা। 

তাইল্যান্ড সরকারের তরফেই এই হামলায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৫ জন। 

হামলা চালানোর আগে এ দিন ফেসবুক-এ একাধিক পোস্ট করে ওই বন্দুকবাজ। সেখানে ওই সেনা অফিসার লেখে, 'আমার কি আত্মসমর্পণ করা উচিত?' আবার অন্য একটি পোস্ট-এ সে লিখেছে, 'কেউ মৃত্যু এড়াতে পারবে না।' কিছুক্ষণ পরেই অন্য একটি পোস্ট করে সে লেখে, 'আমার আঙুল ব্যথা হয়ে গিয়েছে। আর ট্রিগার টিপতে পারছি না।' 

তাইল্যান্ড-এর যে শহরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেখানে সবথেকে বেশি সংখ্যক সেনা ছাউনি রয়েছে। ওই সেনা অফিসার কেন এই কাণ্ড ঘটাল, তাও এখনও স্পষ্ট নয়।