পাকিস্তানে গ্রেফতার ২৬/১১ মুম্বই হামলার মূল চক্রীজাকিউর রহমান লকভি-কে গ্রেফতার করল পাক পুলিশসন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে২৬/১১ মুম্বই হামলার বিষয়ে অবশ্য তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনেনি পাক সরকার 

শনিবার (২ জানুয়ারি), লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ নেতা তথা ২৬/১১ মুম্বই হামলার মূল চক্রী, জাকিউর রহমান লকভি-কে গ্রেফতার করেছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। তবে ২৬/১১ হামলার জন্য নয়, সন্ত্রাসবাদে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে লখভি-কে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী পাকিস্তানে লকভি একটি ডিসপেনসারি খুলে বসেছিল। লস্কর-ই-তৈবা'র তহবিল সংগ্রহের জন্যই ওই ডিসপেনসারি চালাতো সে, এমনটাই পাক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

পাক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, এদিন পাকিস্তানের কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) লখভিকে গ্রেফতার করেছে। তবে কোথা থেকে তাকে ধরা হয়েছে, তা সিটিডি জানায়নি। তাদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শুধু বলা হয়, সিটিডি-র পঞ্জাব শাখার গোয়েন্দারা তদন্ত করে জানতে পেরেছিলেন সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের জন্যই ওই ডিসপেনসারি চালান লকভি। তারপরই এদিন পাক পঞ্জাব সিটিডি-র অভিযানে এলইটি-র অপারেশনাল কমান্ডার জাকিউর রহমান লকভিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরেই ২৬/১১ মুম্বই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসাবে লকভিকে অভিযুক্ত করেছিল। তার পরিবারকে ১,৫০,০০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে তাকে এই হামলায় অংশ নিতে পাঠিয়েছিল এই লকভি, বলে জানিয়েছিল ওই হামলার একমাত্র জীবিত জঙ্গি আজমল কাসভ। ভারতের পক্ষ থেকে অভিযোগের পর পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজাফ্ফরাবাদের কাছে অবস্তিত লস্করের জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরে অভিযান চালিয়ে লকভি-কে গ্রেফতার করেছিল পাকিস্তানী সশস্ত্র বাহিনী। কিন্তু, ২০১৫ সালে এই মামলায় তাকে জামিন দেয় পাক আদালত। সেই থেকে মুক্তই ছিল লকভি।

গত ডিসেম্বররের শুরুতেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন নিয়ে মুম্বই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী লকভিকে খাবার, পোশাক, ওষুধ, আইনজীবী, পরিবহণের মতো প্রয়োজন বাবদ মাসে মাসে ১.৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা জানায়। পাকিস্তান যুক্তি দিয়েছিল, যেহেতু লকভি-র সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে, তাই অর্থাভাবে পড়েছে তার পরিবার। কারণ লকভিই তার পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। তারপর এদিনের গ্রেফতারি স্রেৎ এফএটিএফ-এর কালো তালিকাভুক্ত হওয়া থেকে বাঁচার প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।