'ভাঙবেন তবু মচকাবেন না'-- এই কথা উত্তর কোরিয়ার স্বৈরাচারী শাসক কিম জং উনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ প্রযজ্য। কারণ গত এক বছর ধরে যখন গোটা বিশ্ব করোনাভাইারাসের সঙ্গে মরণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল তখন বারবারই কিম জং উনের প্রশাসন জানিয়েছিল তাঁদের দেশে করোনাভাইরাসের কোনও সংক্রমণ ঘটেনি। করোনাভাইরাসের আঁতুড়ঘর চিনের সঙ্গে এই দেশটি  সীমান্ত ভাগ করে নেয়। কিন্তু এখন যখন বিশ্বের অনেক দেশের হাতেই করোনাভাইরাসের টিকা এসে গেছে তখন দেশটির প্রধান তাঁদের ভ্যাক্সিন সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। রাশিয়া থেকেই কেনা হয়ে গেছে করোনা টিকা। এখন প্রশ্ন যদি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নাই থেকে থাকে তাহলে টিকা লাগবে কেন? 

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবর অনুযায়ী উত্তর কোরিয়া গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাক্সিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন বা জিএভিআই -এর কাছে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক সরবরাহের জন্য আবেদন জমা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই সংস্থাটি আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া দেশগুলির মধ্যে টিকাকরণ কর্মসূচি চালায়। জার্নালে আরও বলা হয়েছে জিএভিআই -এর মুখপাত্র এখনও পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ারা আবেদনপত্র নিয়ে মুখ খোলেনি। বিশ্বের যেসব দেশগুলি উত্তর কোরিয়ার আগে আবেদন জানিয়েছে তাদের আবেদন মূল্যয়ণ করে দেখা হচ্ছে। তবে খুব তাড়াতাড়ি তারা কোনও কোনও দেশে কী ভাবে টিকাকরণ কর্মসূচি চালাবে তা নিয়ে একটি বিবৃতি জারি করবে। 


জিএভিআই আগেই জানিয়েছিল যে স্বল্প আয়ের দেশগুলিতে তারা করোনাভাইরাসের টিকাকরণ কর্মসূচি চালাবে। আর সেই মত বিশ্বের ৯২টি দেশের মধ্যে ৮৯টি আবেদন জমা দিয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে উত্তর কোরিয়াও। তবে উত্তর কোরিয়া প্রশাসনের দেওয়া নথি অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের কোনও রেকর্ড নথিভুক্ত করা হয়নি। গত ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দেশে ১২০০০ মানুষের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রতি ১০ হাজার মানুষের মধ্যে ১০জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

ব্রিটেনে অক্সফোর্ডের প্রথম টিকা ৮২র বৃদ্ধকে, দ্রুত টিকাকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি ...

রাষ্ট্র সংঘের সুরক্ষা কাউন্সিলে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু ভারতের, সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা ...

উত্তর প্রশাসন সূত্রে খবর ডিসেম্বর মাসের শেষের দিক থেকে তারা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কাছথেকে ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাসের টিকা স্পুটিনিক ভি ও থার্মোগ্রাফসহ কিনেছে। পাশাপাশি চিনের কাছ থেকে ডায়গনাস্টিক সরঞ্জামও কিনেছে। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার প্রধান কিম জং উন নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছেই চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠিতেই তিনি বলেছেন কঠিন সময় দেশের ক্ষমতাসীন দলের ওপর তাঁরা যেন আস্থা রাখেন। একই সঙ্গে আর্থিক উন্নতির প্রতিশ্রুতি পুরণ করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও করোনাভাইরাসের সংক্রমণকেই দায়ি করেছেন। নাগরিকদের কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে বলে তাঁদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।