করোনা সংক্রমণের কারণে বিশ্বের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। ইতিমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ২০ লক্ষকে দোড়গোড়ায়। মৃতের সংখ্যা ১ লক্ষ ২৬ হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে অবশ্য ভাল খবর ছিল, করোনাভাইরাসের প্রভাব তেমন ভাবে পড়েনি শিশুদের মধ্যে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এবার এক নতুন আশঙ্কার কথা শোনাল। করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে এবার বিশ্বে হামের প্রকোপ দেখা দিতে পারে। সতর্ককরছে রাষ্ট্রসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। 


মৃত্যু মিছিলে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রেকর্ড আমেরিকার, এবার 'হু' কে অনুদান বন্ধ করলেন ট্রাম্প
ভিসার নিয়ম ভেঙে ধর্মপ্রচার, তাবলিগ জামাতে যোগ দেওয়া ৫৭ জন বিদেশিকে এবার জেলে পুড়ল পুলিশ
ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে, জেনে নিন এখনও করোনা মুক্ত দেশের কোন কোন অঞ্চল
 
করোনা অতিমারী সামাল দিতে বিশ্বের সব দেশই এখন নিজেদের স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজে লাগাচ্ছে। সেই কারণে হামের টীকাকারণ কর্মসূচি পিছিয়ে দিয়েছে ২৪টি দেশ। ১৩টি দেশে তা বাতিল করা হয়েছে। আর সেই কারণেই বিশ্বের ৩৭টি দেশের ১১কোটি ৭০ লক্ষ শিশু সময়মতো টিকা নাও পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রাষ্ট্রসংঘ। 

 
হামের প্রতিষেধক থাকলেও এই রোগে ২০১৮ সালে বিশ্বে ১,৪০,০০০ জনের মৃত্যু হয়েছে,  যাদের অধিকাংশই  শিশু। করোনা অতিমারীর কারণে বিভিন্ন দেশে অনেকগুলি প্রতিষেধক ব্যবস্থা লকডাউনের আওতায় পড়েছে, যে কারণে শিশুরা পোলিও, ইয়েলো ফিভার এবং কলেরার রুটিন টীকা থেকেও বঞ্চিত থাকছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হামের  মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল গণ টীকাকরণ কর্মসূচি এবং শিশুদের রুটিন ভ্যাকসিনেশন। ফলে এই কর্মসূচি বিলম্বের ফলে কয়েকহাজার শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে।

ইতিনধ্যে করোনা সংক্রমণের কারণে মেহিকো, বলিভিয়া, লেবানন, নেপাল ও চিলের মত দেশগুলিতে টীকাকরণ কর্মসূচি বিলম্বিত। নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বলা হয়েছে,  হামের প্রকোপে কঙ্গো ডেমোক্র্যাটিক রিপাব্লিকে ৬৫০০ শিশু মারা গিয়েছে, এবং ২০১৮ সালের পর থেকে এর প্রকোপ আরও ছড়াচ্ছে। প্রবন্ধে আরও বলা হয়েছে, ধনী দেশগুলিও এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। 

হাম,গলগণ্ড ও রুবেলার  টিকা নেওয়ার  মাত্রা কম থাকায় ইউরোপের দেশগুলোকে কয়েকটি প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করতে হয়েছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য তাদের ‘হামমুক্ত’ অবস্থান হারিয়েছে। অথচ মাত্র দুই ডোজ এমএমআর টিকার মাধ্যমে এই রোগটি থেকে শিশুদের মুক্ত রাখা সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, যেসব দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নেই তারা চাইলে এই করোনা সংকটের সময় টিকা দান কর্মসূচি স্থগিত করতে পারে। অবশ্য ইউনিসেফ বলেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে যদি টিকা কর্মসূচি স্থগিতের মতো জটিল সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাহলে আমরা বিশ্বনেতাদের কাছে টিকা না দেওয়া শিশুদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানাবো, যাতে সবচেয়ে অরক্ষিত জনগোষ্ঠীকে যত দ্রুত সম্ভব হামের টিকা দেওয়া যায়।